অস্ট্রেলিয়ায় স্বপ্নের ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছে: হাসান

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইতে ভরাডুবি। দুই টেস্টে দুই বিপরীত অভিজ্ঞতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হলেও ১-১ সমতায় ফেরাটাকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক হাসান মাহমুদ। টাইগার পেসারের দাবি, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের স্বপ্নের প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। তবে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দুই ম্যাচের সিরিজ ড্র হলেও সফরের ইতিবাচক দিকগুলোই সামনে আনলেন হাসান। তিনি বলেন, ‘ডারউইনে জয়, ম্যাকাইতেও তাদের চাপে রাখা এবং বোলিংয়ে দাপট দেখানো, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে এগুলোই ছিল আমাদের স্বপ্ন। আমার মনে হয়, লক্ষ্যের ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছি।’
সফরের আগে নেওয়া প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মাঠে প্রয়োগ করতে পারায় সন্তুষ্ট এই পেসার। হাসান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলন শুরুর পর আমাদের চিন্তা, নিবেদন ও মনোযোগ যেভাবে ছিল, তার পুরোটা মাঠে প্রয়োগ করতে পেরেছি। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন হাসান। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন ব্যাটারকে ফেরান তিনি। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে জেতেন সেরার পুরস্কার। দুই টেস্টে তার ৯ উইকেট ছিল বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। পুরো সিরিজে তার চেয়ে বেশি ১২ উইকেট নিয়েছেন শুধু অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পেসারদের সাফল্যের পেছনে সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল রাখাকেই বড় কারণ মনে করেন হাসান। সফরের আগে কন্ডিশন ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নিয়ে কোচ এবং বিশ্লেষকের সঙ্গে আলাদা পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি লাইন ও লেংথ ঠিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
হাসান বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের পেস বিভাগ উন্নতির চেষ্টা করছে। এই সিরিজে সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ে পেসারদের বড় অবদান ছিল এবং সিরিজের আগে আমরা আত্মবিশ্বাসীও ছিলাম।’
নিয়মিত বড় দলগুলোর বিপক্ষে এমন কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের সাফল্য আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস হাসানের। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের কন্ডিশনে যত বেশি খেলব, ততই দাপট দেখাতে পারব। ভবিষ্যতে আরও ম্যাচ জিতে বিশ্ব ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হয়ে উঠতে চাই।’



