logo
Advertisement

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে সরব লারাও

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে সরব লারাও
ইমরান খান ও ব্রায়ান লারা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে এবার সরব হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। কারাবন্দী ইমরানকে যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। লারার ভাষায়, বিষয়টি রাজনীতির নয়, একজন কিংবদন্তির প্রতি ‘মৌলিক মানবিকতা’ দেখানোর।

Advertisement

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইমরানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন লারা। ক্যারিয়ারে খুব বেশি ম্যাচে মুখোমুখি না হলেও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের প্রতি শুরু থেকেই গভীর শ্রদ্ধা ছিল বলে জানান ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।

লারা লিখেছেন, ‘ইমরান খান ও আমি মাঠে মাত্র কয়েকবার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু তার প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছিল, সেটি ছিল তাৎক্ষণিক এবং আজও অটুট।’

১৯৯০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাকিস্তান সফরে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইমরানের বিপক্ষে খেলেছিলেন লারা।

পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়কের বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না লারা। একসময় দেশের মানুষের কাছে আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকা একজন মানুষ কেন এখন প্রয়োজনীয় যত্ন ও মর্যাদা পাচ্ছেন না, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইমরানের জন্য ‘যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসা’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে লারা বলেন, ‘আমি আমার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে একমত হয়ে তার যথাযথ, স্বাধীন চিকিৎসা এবং প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। এটি রাজনীতি নয়। আমাদের খেলার একজন কিংবদন্তির জন্য এটি মৌলিক মানবিকতার প্রশ্ন।’

৭৩ বছর বয়সী ইমরান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বাস্থ্য, বিশেষ করে চোখের সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এরপর আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পাকিস্তান সরকারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে কারাগারে থাকার উপযোগী ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে ইমরানের দল পিটিআই তার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ইমরানের চিকিৎসার দাবিতে লারাই প্রথম নন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলসহ বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড-পাকিস্তান লর্ডস টেস্টের সময়ও বিষয়টি ক্রিকেটের আলোচনায় চলে আসে। স্কাই স্পোর্টসের সম্প্রচারে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে একের পর এক কণ্ঠ যোগ হওয়ার মধ্যে এবার লারার বক্তব্য বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বিষয় :