
চতুর্থ দিনটা পাকিস্তানকে আশা দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই রেখে গেল। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাবর আজম, শান মাসুদ এবং পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান-সালমান আগার লড়াইয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে শেষ বিকেলে তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাতে আবার এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দিন শেষে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান, জিততে এখনো দরকার ১২১ রান। বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ উইকেট। রিজওয়ান ৭৫ রানে অপরাজিত থাকলেও পঞ্চম দিনের সকালে তাকে দ্রুত ফেরাতে পারলেই সিলেটে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বড় বাধা সরিয়ে ফেলবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের সামনে এখনো ১২১ রানের লক্ষ্য, হাতে আছে ৩ উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৫ রানে অপরাজিত, সঙ্গে সাজিদ খান ৮ রানে। আলো স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে তাইজুল ৩১ ওভারে ১১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। পঞ্চম দিনের সকালে বাংলাদেশের লক্ষ্য পরিষ্কার—রিজওয়ানকে দ্রুত সরিয়ে পাকিস্তানের লেজ গুটিয়ে দেওয়া।
সালমান ফেরার পর হাসান আলীকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাইজুল। স্টাম্পসের কিছুক্ষণ আগে তাঁকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান বাঁহাতি এই স্পিনার। ৬ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন হাসান। দিনের শেষে পাকিস্তান ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান।
চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করল বাংলাদেশ। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনছিল। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে সালমানকে বোল্ড করে বড় ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। ১০২ বলে ৭১ রান করে ফেরেন সালমান।
সিলেট টেস্টে আবারও প্রতিরোধ গড়ছে পাকিস্তান। ৬৮ ওভার শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৪৫ রান। জয়ের জন্য এখনো দরকার ১৯২ রান, বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ উইকেট।
চা-বিরতির পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা সতর্ক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে উইকেটবঞ্চিত রেখেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি এখন ১৪১ বলে ৮৩ রান। রিজওয়ান ৪৫ ও সালমান ৪০ রানে অপরাজিত।
চতুর্থ দিনের চা-বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২০০ রান। সিলেট টেস্ট জিততে এখনো ২৩৭ রান দরকার সফরকারীদের। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার আর ৫ উইকেট। ক্রিজে আছেন সালমান আগা ২৫ ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৫ রানে।
দ্বিতীয় সেশনটা শুরুতে পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকছিল। বাবর আজম দারুণ ছন্দে ছিলেন, শান মাসুদও ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে টেনে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ফিফটির আগে বাবরকে লেগ সাইডে ক্যাচে ফেরান তাইজুল। এরপর সৌদ শাকিলকে নাহিদ রানা ও ৭১ রান করা মাসুদকে ফেরান তাইজুল।
৫ উইকেটে ১৬২ রান হয়ে যাওয়ার পর রিজওয়ান ও সালমান আগা জুটি গড়ে পাকিস্তানকে আর ধসতে দেননি। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেছেন ৩৮ রান। তবে লক্ষ্য এখনো অনেক দূরে। শেষ সেশনে বাংলাদেশের কাজ পরিষ্কার—নতুন করে চাপ তৈরি করে বাকি ৫ উইকেট তুলে নেওয়া।
একসময় বাবর আজম ও শান মাসুদের জুটিতে পাকিস্তান লড়াইয়ে ফেরার আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু বাবরের পর দ্রুত শাকিল ও মাসুদকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করল বাংলাদেশ। ৪৫ ওভার শেষে পাকিস্তান ৫ উইকেটে ১৬২। জয়ের জন্য এখনো দরকার ২৭৫ রান, বাংলাদেশের চাই আর ৫ উইকেট। ক্রিজে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা।
এরপর আরও বড় আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রানে থাকা শান মাসুদকে ফেরান তিনি, আর উইকেটটির বড় কৃতিত্ব মাহমুদুল হাসান জয়ের। তাইজুলের ঘূর্ণি সামান্য লাফিয়ে ব্যাটের কাঁধে লাগে, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে নিচু ক্যাচটি দারুণ রিফ্লেক্সে ধরেন জয়। ১১৬ বলে ৮ চারে ৭১ রান করে ফিরলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
পানীয় বিরতির পরই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দিলেন নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুলার লেংথের বল তাড়া করতে গিয়ে ব্যাট ছোঁয়ান সৌদ শাকিল, উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন দাস। ব্যাটও মাটিতে লেগেছিল একই সময়ে, তবে আল্ট্রা-এজে স্পাইক থাকায় আউটের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ২১ বলে ৬ রান করে ফিরলেন শাকিল।
বাবর ফিরলেও এক প্রান্ত ধরে রেখেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। তাইজুলের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ৪১.৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৪৭ রান। মাসুদ ১০৪ বলে ৬০ রানে অপরাজিত, তার সঙ্গে সৌদ শাকিল ১৮ বলে ৪ রানে ব্যাট করছেন।

তাইজুলকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে আবারও উচ্ছ্বাসে ভাসালেন তাইজুল ইসলাম। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে জমে ওঠা বাবর আজম-শান মাসুদ জুটি ভাঙলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। লেগ সাইডে ফ্ল্যাট ডেলিভারিতে বাবর ফ্লিক করতে গিয়ে হালকা কানা দেন, উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৫২ বলে ৪৭ রান করে ফিরলেন বাবর। পাকিস্তান তখন ৩ উইকেটে ১৩৩।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানকে টেনে তুলছেন শান মাসুদ ও বাবর আজম। মাসুদ ৭৮ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত, বাবর খেলছেন ৪৯ বলে ৪৭ রানে। দুজনের জুটিতে পাকিস্তানের ইনিংসে স্থিরতা এসেছে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৩১/২
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ এখন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে দিয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছে। মিরাজ ১০ ওভারে ৩৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন, তাইজুল ৫ ওভারে দিয়েছেন ২২ রান। পিচ থেকে স্পিনাররা এখনো বড় সহায়তা পাচ্ছেন না, তাই ব্রেকথ্রুর জন্য বাংলাদেশকে ধৈর্য ধরতে হচ্ছে।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন শেষে সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান। জয়ের জন্য এখনও ৩৩৬ রান দরকার সফরকারীদের, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮ উইকেট।
সকালের সেশনে ২৪ ওভারে ১০১ রান তুলেছে পাকিস্তান, হারিয়েছে দুই ওপেনারকে। আজান আওয়াইসকে ২১ রানে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। আবদুল্লাহ ফজল ৬ রান করে নাহিদ রানার শিকার হন।
তবে এরপর তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানকে সামলে তুলেছেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। ৬১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি গড়ে মধ্যাহ্নভোজে যান দুজন। বাবর ২৪ ও মাসুদ ৪১ রানে অপরাজিত আছেন।