বড় ব্যবধানে জয়ের চাপে পাকিস্তান, স্মরণে ১৬ বছরের আফ্রিদি

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে কিছু রাত আছে, যেগুলো কেবল ম্যাচ জয়ের গল্প নয়—বিশ্বাসের গল্প। ১৯৯৬ সালের সেই বিকেলটা তেমনই এক দিন, যখন ১৬ বছরের এক কিশোর ব্যাট হাতে পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। তার নাম শহীদ আফ্রিদি।
আজ পাল্লেকেলের আলো-আঁধারিতে আবারও শ্রীলঙ্কা সামনে মেন ইন গ্রিনরা। আবারও দরকার বড় ব্যবধানে জয়। আর তাই প্রশ্নটা ঘুরে-ফিরে আসছে ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে?
১৯৯৬: এক কিশোর, এক ঝড়, এক অসম্ভব সমীকরণ
নাইরোবির কেসিএ সেন্টেনারি টুর্নামেন্ট। পাকিস্তানের সামনে তখন পরিষ্কার হিসাব, শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারাতে না পারলে ফাইনাল নয়।
সেই চাপের ম্যাচেই নেমেছিলেন অভিষিক্ত এক কিশোর। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আফ্রিদি খেলেছিলেন ৪০ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যা তখনকার দিনে কল্পনাকেও হার মানায়। ছক্কা আর চারের বন্যায় তিনি ম্যাচের গতি এমনভাবে পাল্টে দেন, যেন সমীকরণ বলে কিছুই নেই।
সাঈদ আনোয়ারের শতকের সঙ্গে আফ্রিদির ঝড়ে পাকিস্তান তোলে ৩৭১ রান। পরে বোলাররা কাজ শেষ করেন। বড় ব্যবধানে জিতে পাকিস্তান উঠে যায় ফাইনালে।
সেদিনের ম্যাচটা কেবল জয় ছিল না, সেটা ছিল এক মানসিক ঘোষণা। পাকিস্তান চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ে না, বরং বিস্ফোরিত হয়।
আফ্রিদির সেই ইনিংস শুধু রানের খাতা বদলায়নি, বদলেছিল আত্মবিশ্বাসের ব্যাকরণ। ক্রিকেটে কখনও কখনও এক ইনিংস পুরো দলের মনস্তত্ত্ব পাল্টে দেয়।
একজন তরুণ ক্রিকেটার, যার ওপর তেমন প্রত্যাশাও ছিল না তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ত্রাতা।
আজ যখন আবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয়ের সমীকরণ সামনে, তখন সমর্থকেরা খুঁজছেন সেই ‘আফ্রিদি মুহূর্ত’, কেউ একজন কি ব্যাট হাতে ঝড় তুলবে, কেউ কি চাপকে উপভোগ করবে?
টি-টোয়েন্টির যুগে ৬৫ রানের ব্যবধান বা ১৩ ওভারে রান তাড়া করা নিছক সংখ্যা নয়, এগুলো মানসিক যুদ্ধও।
১৯৯৬ সালে আফ্রিদি ছিলেন অচেনা। আজকের পাকিস্তান দলে হয়তো এমনই কেউ আছে, যে এখনও পুরোপুরি নিজের গল্প লেখেনি।
ইতিহাস হুবহু ফিরে আসে না। কিন্তু অনুপ্রেরণা ফিরে আসে।
আর পাকিস্তানের ক্রিকেট যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখনই তো জন্ম হয় নতুন কিংবদন্তির।
পাল্লেকেলের রাত কি আবার দেখবে এক কিশোরের মতো নির্ভীক ব্যাটিং, নাকি আফ্রিদির গল্পই থেকে যাবে চাপের ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি।