logo
Advertisement

নাহিদ রানার ফাইফারে দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথমবার পাকিস্তান-বধ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নাহিদ রানার ফাইফারে দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথমবার পাকিস্তান-বধ
দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার গুড়িয়ে দেন রানা। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের বিকেলটা যেন নাহিদ রানার জন্যই অপেক্ষা করছিল। পাকিস্তান একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ড্রয়ের সম্ভাবনাও ছিল টেবিলে। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ পেসারের আগুনে স্পেল সব হিসাব পাল্টে দিল। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান অলআউট হলো ১৬৩ রানে। মিরপুরে বাংলাদেশ জিতল ১০৪ রানে।

Advertisement

এই জয়ের নায়ক নাহিদ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তিনি। শেষ উইকেটটিও এসেছে তার হাত ধরেই। শর্ট বল সামলাতে গিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি গ্লাভস ছুঁইয়ে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি পাকিস্তানের। সেই উইকেটেই পূর্ণ হয় নাহিদের পাঁচ উইকেট, নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।

চা-বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। বিরতির সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১১৬। অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে পাকিস্তানের আশা ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ সেশনের শুরুতেই তাইজুল ইসলাম তাকে এলবিডব্লিউ করেন। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ১১৩ বলে ১১ চারে ৬৬ রান করে ফিরতে হয় ফজলকে।

এরপর তাসকিন আহমেদ ফেরান সালমান আগাকে। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে গালিতে শাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন সালমান। ৩৯ বলে ২৬ রান করে তিনি ফিরলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১২১। এখান থেকেই চাপটা পুরোপুরি চলে আসে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে।

রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নাহিদ আক্রমণে ফিরেই সেটিও ভেঙে দেন। প্রথমে সৌদ শাকিলকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। এরপর অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢোকা ১৪৭ কিলোমিটার গতির বল ছেড়ে দিয়েছিলেন রিজওয়ান, কিন্তু বল গিয়ে আঘাত করে মিডল স্টাম্পে।

রিজওয়ানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের ইনিংস আর টেকেনি। তাইজুল এলবিডব্লিউ করেন হাসান আলীকে। নাহিদ ফেরান নোমান আলীকে। এরপর শেষ উইকেটে শাহিনকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১৬৩ রানে।

এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৪১৩ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য থেকে ১০৪ রান দূরেই থেমে যায় সফরকারীরা।

এই জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে টানা তৃতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। মিরপুরের পঞ্চম দিনের পিচে স্পিনের সঙ্গে পেসের যে মিশ্রণ দরকার ছিল, সেটিই এনে দিলেন নাহিদ-তাইজুলরা। বিশেষ করে নাহিদের গতির সামনে শেষ বিকেলে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)

ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী