Advertisement

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে দিন শেষ করল বাংলাদেশ
মিরাজ ও হাসান ১৪৭ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েছেন। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

ডারউইনে বল হাতে হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটে প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনও অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি পেতে দিলেন না তানজিদ হাসান তামিমরা। তানজিদের ঐতিহাসিক শতক, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং শেষ বিকেলে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধে ডারউইন টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে।

Advertisement

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের চেয়ে সফরকারীরা এগিয়ে ১৫৩ রানে। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।

১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার তানজিদ ও মুমিনুল হক প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেন। দুজনের জুটি পেরিয়ে যায় শতরান।

ব্যক্তিগত অর্ধশতকের খুব কাছে গিয়ে থামতে হয় মুমিনুলকে। জশ হ্যাজলউডের বলে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯৫ বলে ৮ চারে করেন ৪৯ রান। তানজিদের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তার জুটিতে আসে ১০২ রান।

মধ্যাহ্নবিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৮১ রান। তখনও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল সফরকারীরা। বিরতির পর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলেন তানজিদ।

মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ ১৮৮ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়ে যান তিনি।

শতকের পর অবশ্য ইনিংসটি বেশি লম্বা করতে পারেননি তানজিদ। নাথান লায়নকে লং অফের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন। ১৯৭ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ১০১ রান। শান্তর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৯৩ রান।

তানজিদের বিদায়ের পরও অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি দেননি শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৬ রান। চা-বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৮৬।

৮০ ওভার শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। হ্যাজলউডের বলে স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত। ১২৬ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান।

এরপর ১২ বলে কোনো রান না করেই মিচেল স্টার্কের শিকার হন লিটন দাস। ৫৫ বলে ৫ চারে ৩৬ রান করা মুশফিককে ফেরান প্যাট কামিন্স। তিনটি ক্যাচই নেন স্মিথ। মাত্র ১১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে নেমে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া তখন দ্রুত বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার আশা দেখছিল। সেই সুযোগ আর দেননি মিরাজ ও হাসান। সপ্তম উইকেটে ১৪৭ বল খেলে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রান যোগ করেন তারা। বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৭৬ বল টিকে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেন হাসান।

দিনের শেষ বলে মিরাজকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মার্নাস লাবুশেনের বলে তার কাট গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে গেলেও ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক ও হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। কামিন্স ও লায়নের শিকার একটি করে।

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে দিন শেষ করল বাংলাদেশ