logo

লিটন-সাইফের ব্যাটে চড়ে ধূমকেতু একাদশের জয়

লিটন-সাইফের ব্যাটে চড়ে ধূমকেতু একাদশের জয়

অভিজ্ঞতা আর ম্যাচ টেম্পারামেন্ট—এই দুই জায়গাতেই তরুণদের দুরন্ত একাদশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ধূমকেতু। তবু প্রথমে ব্যাট করে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আকবর আলীরা। মিরপুরের উইকেটে ১৪৩ রান খুব বড় না হলেও একেবারে হালকাও ছিল না। কিন্তু বল হাতে সেই প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারেনি তরুণরা। লিটন দাস ও সাইফ হাসানের জোড়া ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ধূমকেতু।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অদম্য কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লিটনের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু একাদশ ৬ উইকেটে হারায় আকবর আলীর দুরন্ত একাদশকে। আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় দুরন্ত, জবাবে ২৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ধূমকেতু।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখতে বিসিবির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এই অদম্য কাপ। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দর্শকদের জন্যও বাড়তি বিনোদনের লক্ষ্য থাকলেও প্রথম দিন গ্যালারিতে খুব বেশি সাড়া দেখা যায়নি। শিক্ষার্থী ও একাডেমির ক্রিকেটারদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও পুরোপুরি ভরেনি গ্যালারি।

তবে মাঠের লড়াইয়ে প্রাণ ফেরান লিটন ও সাইফ। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুজন মিলে ৫৩ বলে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিন ছক্কা ও চার চারে ৩০ বলে ৫০ রান করে সাইফ ফেরেন যখন, দলের স্কোর তখন ১১২। ওপেনিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ৮ বলে ১৭ রান করে দ্রুত শুরু এনে দেন।

সাইফের বিদায়ের পর অল্প ব্যবধানে পারভেজ ইমন ও তাওহীদ হৃদয় আউট হলে খানিকটা চাপে পড়ে ধূমকেতু। দুই ব্যাটারকেই পরপর ফেরান মেহরব। তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক লিটন দাস দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। ৪৩ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দুরন্তের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহরব—৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দুরন্তের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। মাহফিজুল রবিন ও জিসান আলমের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩১ রান। তানজিম হাসান সাকিব জিসানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। দ্বিতীয় উইকেটে রবিন ও আজিজুল হাকিম তামিম ৩৬ রান যোগ করলেও রান তোলার গতি ছিল মন্থর। ৩৬ বলে ৩৯ রান করে রবিন ফিরলে স্কোর দাঁড়ায় ৭৫।

এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দুরন্ত। অধিনায়ক আকবর আলী ও এস এম মেহরব ছোট ছোট ইনিংস খেললেও কেউই বড় করতে পারেননি। এক পর্যায়ে ১১৭ রানে ৭ উইকেট হারানো দলটিকে শেষ দিকে কিছুটা টেনে তোলেন জাওয়াদ আবরার ও আব্দুল গফফার সাকলাইন। দু’জন মিলে গুরুত্বপূর্ণ ২৪ রানের জুটি গড়ে স্কোর ১৪৩–এ নিয়ে যান। আবরার করেন ৮ বলে ১০, সাকলাইন ১৫ বলে ১৫ রান।

এদিন ৮ নম্বরে নেমে আবরার গড়েন একটি অনন্য নজির—দেশের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এবারের অদম্য কাপেই প্রথম চালু হয়েছে এই নিয়ম।

ধূমকেতুর হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ হোসেন—৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তানজিম সাকিব ও শরিফুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট।