ভারতকে চাপে ফেলতেই নাকি বাংলাদেশকে উসকানি, দাবি বিশ্বকাপজয়ী পেসারের

ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তাপ যেন বেড়েই চলছে। এবার ভারতের ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক পেসার মদন লাল সরাসরি পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তার অভিযোগ, পাকিস্তানই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশ না নিতে উসকানি দিচ্ছে— মূল লক্ষ্য, ভারতকে চাপে ফেলা।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন কার্যত অসম্ভব। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিশ্চিত করেন, দলটি ভারতে যাবে না এবং শুধু গ্রুপ সির ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানো হলে তবেই তারা টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে স্কটল্যান্ডের সুযোগ পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানই বাংলাদেশকে এই সিদ্ধান্তে উসকে দিচ্ছে। ভারতের কিছুই ক্ষতি হবে না, কিন্তু বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা পুরোপুরি রাজনীতি। তারা শুধু ভারতকে চাপে ফেলতে চায়।’
বাংলাদেশ গ্রুপ সি-তে ইংল্যান্ড, নেপাল, ইতালি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে রয়েছে। সূচি অনুযায়ী তাদের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। মদন লালের দাবি, মুম্বাই ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর একটি। তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি নেই।
‘মুম্বাই খুবই নিরাপদ। এতে ভারতীয় বোর্ডের কোনো সমস্যা হবে না। এটা রাজনীতির অংশ— পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসঙ্গে অবস্থান নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে,’ বলেন তিনি।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের একাংশ দাবি করেছে, পিসিবি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং চেয়ারম্যান মহসিন নকভি নাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলের প্রস্তুতিতেও ব্রেক দিয়েছেন।
তবে ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতে দলের নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) কিংবা আইসিসি কোনো পক্ষই বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
একদিকে পাকিস্তানের ‘উসকানি’র অভিযোগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনড় অবস্থান— সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন নজর আইসিসির পরবর্তী সিদ্ধান্তে— সেখানেই নির্ধারিত হবে, মাঠে গড়াবে কি না এই বিতর্কের শেষ অধ্যায়।