logo

যেভাবে ফাইনাল হাতছাড়া হয় নিউজিল্যান্ডের

যেভাবে ফাইনাল হাতছাড়া হয় নিউজিল্যান্ডের

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের পরাজয়ের গল্প শুরু হয়েছিল ম্যাচের একেবারে শুরুতেই। প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লে যেখানে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ ছিল সেই সময়টাতেই দাপট দেখায় টিম ইন্ডিয়া আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়ে যায় ফাইনাল।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার আগেই ধারণা করেছিলেন, উইকেটটি ব্যাটিং সহায়ক হবে। ম্যাচের আগের দিনই তিনি বলেছিলেন, পিচটি সম্ভবত “ফ্ল্যাট এবং হাই-স্কোরিং” হতে পারে। সেই ভাবনা মাথায় রেখেই তিনি টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরুটা করতে পারেনি কিউইরা। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা পাওয়ারপ্লেতেই ঝড় তোলেন। প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান তুলে নেয় ভারত যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর।

এই আগ্রাসী সূচনা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা শেষ হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ফেরার চেষ্টা করলেও তখন পর্যন্ত অনেক দেরি হয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে স্যান্টনার স্বীকার করেন, শুরুতেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ‘পাওয়ারপ্লেতে সঞ্জু ও অভিষেক যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটাই ম্যাচের বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। তখনই আমরা ম্যাচের পেছনে পড়ে যাই,’ বলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শুরুতে ভ্যারিয়েশন আনার চেষ্টা করেছিল। পেস কমিয়ে স্লোয়ার বল, ওয়াইড লাইন-সব কৌশলই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক থেকেই যায়। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র কয়েকটি বলই আদর্শ লেন্থে পড়েছিল, ফলে ভারত সহজেই রান তুলতে থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল বোলিং পরিবর্তন। নিউজিল্যান্ড প্রথম চার ওভারে চারজন ভিন্ন বোলার ব্যবহার করে। এতে করে তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পেসার ম্যাট হেনরি শুরুতে মাত্র একটি ওভারই করতে পারেন। অন্যদিকে অফস্পিনার গ্লেন ফিলিপসকেও পাওয়ারপ্লেতে মাত্র এক ওভার দেওয়া হয়।

স্যান্টনার পরে বলেন ‘যখন ব্যাটাররা এমন ছন্দে থাকে তখন তাদের থামানো খুব কঠিন। আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা চেষ্টা করেছি—ওয়াইড বল, ইয়র্কার, লেগ সাইড ফিল্ড—সবই। কিন্তু তারা যেভাবে পাওয়ারপ্লে সেট করেছিল, সেখান থেকেই তারা বড় স্কোরের পথে এগিয়ে যায়।’

ফাইনালে ভারতের সেই দুর্দান্ত সূচনা শেষ পর্যন্ত ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহে রূপ নেয়। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

স্যান্টনারের কথায়, ‘দিনের গল্পটা আসলে দুই দলের পাওয়ারপ্লে। তারা ছিল ৯০–এর কাছাকাছি বিনা উইকেটে, আর আমরা ছিলাম তিন উইকেটে ৪০।’

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, ম্যাচের বাকি অংশে যা-ই ঘটুক না কেন প্রথম ছয় ওভারেই ফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।