আইপিএল মালিকানায় দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানিদের দল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আসন্ন মৌসুমে আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের চুক্তিবদ্ধ করবে না—এমনই দাবি করেছে বিবিসির এক প্রতিবেদন। বিষয়টিকে একজন খেলোয়াড় প্রতিনিধি (এজেন্ট) আখ্যা দিয়েছেন ‘অলিখিত নিয়ম’ হিসেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্য হান্ড্রেডের আট দলের মধ্যে চারটিতে এখন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির বিনিয়োগ রয়েছে—ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডস। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই মালিকানা কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ইসিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এক এজেন্টকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আইপিএল-সম্পৃক্ত দলগুলোর কাছে তার পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের প্রতি আগ্রহ সীমিত থাকবে। অন্য এক এজেন্টের ভাষ্য, ভারতীয় বিনিয়োগ থাকা লিগগুলোতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিষয়ে এমন একটি ‘অলিখিত নীতি’ কার্যত অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান।
২০০৯ সালের পর থেকে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলেননি। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দেখা যায়নি, যেখানে ছয়টি দলই আইপিএল মালিকানাধীন।
এ বিষয়ে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের ডেপুটি চেয়ারম্যান জেমস শেরিডান বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো দুটি প্রতিযোগিতার জন্য সেরা স্কোয়াড গঠন করা।’
অন্যদিকে ইসিবির এক মুখপাত্র বলেন, ‘দ্য হান্ড্রেড বিশ্বজুড়ে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের স্বাগত জানায়। আমরা আশা করি, আটটি দলই সেই বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করবে।’
তিনি আরও জানান, এবারের নিলামের জন্য প্রায় ১৮টি দেশের প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দীর্ঘ তালিকায় ৫০–এর বেশি খেলোয়াড় রয়েছে।
গত মৌসুমে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিম দ্য হান্ড্রেডে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া আগের মৌসুমগুলোতে শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান ও হারিস রউফও খেলেছেন। তবে নারীদের দ্য হান্ড্রেডে এখনো কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড় অংশ নেননি।
ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড গত বছর ভারতীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর বলেছিলেন, ‘সব দেশের খেলোয়াড়দের সব দলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত,’ এবং তিনি স্পষ্ট বৈষম্যবিরোধী নীতির কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টম মফাট বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ন্যায্য ও সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিয়োগে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো ন্যায্যতা ও সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।’
দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে এই বিতর্ক সামনে আসায় ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নিলাম প্রক্রিয়ায় বাস্তবে কী চিত্র দেখা যায়।