logo
Advertisement

সর্বোচ্চ রান, বল হাতে ৬ উইকেট: ম্যাকেতে শরিফুলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
সর্বোচ্চ রান, বল হাতে ৬ উইকেট: ম্যাকেতে শরিফুলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড
শরিফুল ইসলাম। ছবি: বিসিবি

১১ নম্বরে নেমে ১৪ রান, পরে ৩৫ রানে ৬ উইকেট। ম্যাকেতে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের দিনটিকে একাই অন্য গল্প লিখলেন শরিফুল ইসলাম।

Advertisement

দিনের শুরুতে তার জায়গা ছিল ব্যাটিংয়ের একেবারে শেষে। দিনের শেষে বাংলাদেশের গল্পে সবার আগে তার নাম। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান, পরে বল হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পেরিয়ে ছয় শিকার। বাংলাদেশের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উজ্জ্বল দিনটি লিখলেন শরিফুল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ১০১ রানে। তবে ১৮ উইকেটের দিনে ব্যবধানটা আরও বড় হতে দেননি শরিফুল।

বাংলাদেশ ৩৯ রানে নবম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন তিনি। ততক্ষণে দলের স্বীকৃত সব ব্যাটার ফিরে গেছেন। সেখান থেকে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে শেষ উইকেটে যোগ করেন ২৫ রান, যা বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।

তিনটি চারে ১৯ বলে ১৪ রান করেন শরিফুল। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। দলের অন্য কোনো ব্যাটার শরিফুলের ১৪ রানও ছুঁতে পারেননি।

এই ছোট ইনিংসেই বিরল এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১৩তম বার কোনো দলের ১১ নম্বর ব্যাটার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ঘটনা এই প্রথম। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছিলেন তালহা জুবায়ের।

ব্যাট হাতে কাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বল হাতে শুরু শরিফুলের। তার প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ট্রাভিস হেডকে ২২ রানে বোল্ড করেন। একই ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করেন মারনাস লাবুশেনকে। মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ১ উইকেটে ৪০ থেকে হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৪১।

স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সেই জুটিও ভাঙেন শরিফুল। ৪২ রান করা স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে নেন তৃতীয় উইকেট।

এরপর একই ওভারে বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। দুজনই ফেরেন শূন্য রানে। পরের ওভারে মিচেল স্টার্কের অফ স্টাম্প ছিটকে দিয়ে শিকারসংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান শরিফুল।

১১ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট, টেস্টে শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। তার ছয় শিকারের তালিকায় হেড, লাবুশেন ও স্মিথের মতো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির তিন ব্যাটারও রয়েছেন।

চোটের কারণে ডারউইনের প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি শরিফুল। ম্যাকেতে ফিরেই ব্যাটে দলের সেরা, বলে ক্যারিয়ারসেরা। স্কোরবোর্ডে প্রথম দিনটি অস্ট্রেলিয়ার হলেও দিনের সবচেয়ে আলাদা গল্পটি শুধুই শরিফুলের।

সর্বোচ্চ রান, বল হাতে ৬ উইকেট: ম্যাকেতে শরিফুলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড