ক্রিকেট বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কটের পুরোনো নজিরগুলো

সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। তবে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে না নামার পাকিস্তান সরকারের ঘোষণায় ক্রিকেটাঙ্গনে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। এই ঘোষণার পর আবারও আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ‘নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কট’ প্রসঙ্গ। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এ সিদ্ধান্তকে ক্রীড়াসুলভ নীতির পরিপন্থি বললেও ইতিহাস বলছে, বৈশ্বিক আসরে দলগুলোর ম্যাচ বর্জনের ঘটনা একেবারে নতুন নয়।
পাকিস্তান সরকার রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় দল ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। দলটি এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে বিশ্বকাপ খেলতে।
আইসিসি এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, নির্বাচিতভাবে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মৌলিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার সততা, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইসিসির বিবৃতি সত্ত্বেও অতীতেও ছিল বয়কটের নজির। এশিয়া পোস্টের পাঠকের জন্য উল্লেখ করা হলো সেসব ঘটনা :
১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ
ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজিত বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ কলম্বোয় গ্রুপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শ্রীলঙ্কা ওয়াকওভার পয়েন্ট পায় এবং পরে সেই টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে খেলতে যায়নি রাজনৈতিক আপত্তির কারণে। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডও কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে ম্যাচ খেলেনি নিরাপত্তা ইস্যুতে। আইসিসি ম্যাচ সরাতে অস্বীকৃতি জানালে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া ওয়াকওভার পয়েন্ট পায়। কেনিয়া সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে চমক সৃষ্টি করে।
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি : নিরপেক্ষ ভেন্যুর সমঝোতা
পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে ভারত সরকারিভাবে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আইসিসি ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু মডেল’ চালু করে, যেখানে ভারত তাদের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে খেলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জেতে। ২০২৪-২৭ চক্রে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের ভিত্তি তখনই তৈরি হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে সম্ভাব্য ওয়াকওভার পরিস্থিতি
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী কোনো দল আগেভাগে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াকওভার হয় না। নির্ধারিত সময়ে টসের জন্য কোনো দল মাঠে উপস্থিত না হলে তবেই ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার দেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দল গ্রুপ পর্বে পূর্ণ দুই পয়েন্ট পায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেও অতীতের নজিরগুলো দেখাচ্ছে— রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বহুবারই আইসিসি টুর্নামেন্টের মাঠে প্রভাব ফেলেছে। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই কি ঘটতে যাচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।