সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া পাকিস্তান

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতেই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বুধবারের সেই ম্যাচে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সের পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে।
মিরপুরে বুধবার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই গুঁড়িয়ে দেন পেসার নাহিদ রানা। তার আগ্রাসী বোলিংয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে কম স্কোর।
নাহিদ রানা ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ৫ উইকেট ২৪ রান নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটারদের একের পর এক বিপাকে ফেলেন। গতি ও বাউন্সের দারুণ মিশেলে তিনি অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগাকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ কোনো চাপই নেয়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান মাত্র ৪২ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ ম্যাচটি জেতে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখে।
এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে শুক্রবারের ম্যাচে জয় পেলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস আরও দ্রুত ঘটান। সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মিরাজের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন।
অন্যদিকে পাকিস্তান দল নতুন প্রজন্ম নিয়ে এই সিরিজে নেমেছে। প্রথম ম্যাচে তারা চারজন নতুন ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান, মাআজ সাদাকাত, শামিল হুসেইন ও আবদুল সামাদকে একাদশে জায়গা দেয়। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে ব্যাটিংয়ে।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ফাহিম আশরাফ, তিনি আট নম্বরে নেমে ৩৭ রান করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বোলিং বিভাগেও পরিবর্তন আনতে পারে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিম বেশ খরুচে ছিলেন। তাই তার জায়গায় পেসার হারিস রউফকে একাদশে নেওয়ার চিন্তা করতে পারে দলটি।
পিচ নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। প্রথম ম্যাচে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে বাউন্স ছিল, যা বাংলাদেশের পেসাররা ভালোভাবে কাজে লাগান। একই ধরনের উইকেট হলে পাকিস্তানের পেসাররাও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে এখন সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ চাইবে জয় দিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করতে, আর পাকিস্তান মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবে লড়াইয়ে ফিরতে।