একক সিদ্ধান্তে বিতর্কে আমিনুল, বিসিবিতে বাড়ছে অস্বস্তি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে বোর্ডের ভেতরে-বাইরে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ ও প্রশ্ন। সর্বশেষ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে তার একক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ।
সম্প্রতি বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান আমিনুল ইসলাম—যা তিনি বোর্ডের অন্য পরিচালকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই করেন বলে জানিয়েছে ক্রিকবাজ। এতে অনেক পরিচালক বিষ্মিত হয়েছেন।
বিসিবির একাধিক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রিকবাজকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মতামত প্রায়ই উপেক্ষিত হচ্ছে। এক পরিচালক বলেন, বোর্ড মিটিংয়ের বাইরে এ পর্যন্ত মাত্র দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত এবং অন্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি টাকা অনুদান দেওয়া। তবে এসব ক্ষেত্রেও আলোচনা নয়, বরং সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি তার।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল সরকার চায় না আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিই, তাই যাচ্ছি না। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি টাকা দেওয়া হবে। এখন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি নিয়ে এত আলোচনা কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগেও আমাদের না জানিয়েই হয়েছে।’
জানা গেছে, পরিচালকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠির খসড়া শেয়ার করা হলে সাতজন পরিচালক তাতে ‘থাম্বস আপ’ প্রতিক্রিয়া জানান। একমাত্র প্রতিক্রিয়া আসে সংগীতশিল্পী ও বোর্ড সদস্য আসিফ আকবরের কাছ থেকে, যিনি লিখেন, “ধন্যবাদ, এটি প্রয়োজন ছিল।”
তবে বোর্ডের ভেতরে অনেকেই এই পদক্ষেপে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এক সদস্য বলেন, “কেন এবং কার পরামর্শে এমন চিঠি দেওয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি ভিন্নভাবে সামলানো যেত।”
এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এনএসসির কর্মকর্তা দৌলতুজ্জামান খান বলেন, আইনের ধারা অনুযায়ী সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো বিষয়ে এনএসসিকে নির্দেশ দিতে পারে এবং বিসিবি যেহেতু এনএসসির অধিভুক্ত সংস্থা, তাই তদন্তের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত মানেই দোষ প্রমাণ নয়। এটি একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া, যেখানে অভিজ্ঞ ও স্বাধীন ব্যক্তিরা কাজ করছেন। তাই এতে আপত্তির কিছু নেই।’
বর্তমানে বিসিবির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বোর্ডের ভেতরে মতবিরোধ, ঘরোয়া লিগ আয়োজন নিয়ে জটিলতা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা সব মিলিয়ে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এই দুইয়ের চাপ একসঙ্গে সামলাতে না পারলে আমিনুল ইসলামের মেয়াদ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। তার নেতৃত্বের ধরন নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে, যা বিসিবির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে।