বাংলাদেশের এক ধসে যত রেকর্ড

ম্যাকেতে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের সাংকেতিক হিসাব ১৪-৬-৬৪। প্রথম ছয় ব্যাটারের মোট ১৪ রান, মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেট, আর পুরো দলের সংগ্রহ ৬৪। এক সপ্তাহ আগে ৪২৬ করা বাংলাদেশের স্কোরকার্ড এবার ভরে গেল চারটি শূন্যে। ১১ নম্বর শরীফুল ইসলাম হলেন সর্বোচ্চ স্কোরার, আর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিলেন স্টার্ক।
শূন্য চার, প্রথম ছয়ের রান ১৪
ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু করেন স্টার্ক। এরপর তার শিকার তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস। বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটারের চারজনই ফিরেছেন শূন্য রানে। মুমিনুলের ৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৫ মিলিয়ে তাদের সম্মিলিত রান মাত্র ১৪।
৩৯ রানে ৯, শেষ জুটিতেই ২৫
১২ রানে ৫ এবং ২১ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ একপর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারায়। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামের শেষ জুটিতে আসে ২৫ রান। ১৯ বলে ১৪ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার শরীফুল। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। বাংলাদেশ অলআউট হয় ঠিক ৩৪ ওভারে।
বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন
ম্যাকের ৬৪ বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর চেয়ে কম তিনটি স্কোর ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩, ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩ এবং ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে ছোট
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর। আগের সর্বনিম্ন ছিল ২০০৩ সালে ডারউনে ৯৭। ২৩ বছর পর সেই অস্ট্রেলিয়াতেই নিজেদের আগের সর্বনিম্নকে আরও ৩৩ রান নিচে নামাল বাংলাদেশ।
১১ নম্বরই সেরা, টেস্টে ১৩তম
১১ নম্বরে নেমে শরীফুলের দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করাটিও জায়গা পেয়েছে রেকর্ডে। টেস্ট ইতিহাসে কোনো ইনিংসে ১১ নম্বর ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়ার এটি মাত্র ১৩তম ঘটনা। এমন ঘটনায় সর্বনিম্ন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর ছিল নাথান লায়নের ১৪। শরীফুল ছুঁয়েছেন সেই সংখ্যাটিও।
প্রথম বলেই চতুর্থবার
কোনো টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলেই চারবার উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার হয়েছেন স্টার্ক। সাদমানের আগে তাঁর প্রথম বলের শিকার হয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার দিমুথ করুনারত্নে, দক্ষিণ আফ্রিকার স্টিফেন কুক ও ইংল্যান্ডের জ্যাক ক্রলি।
২২ বলেই পাঁচ উইকেট
প্রথম পাঁচ উইকেট নিতে স্টার্কের প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ২২ বল। টেস্ট ইতিহাসে এটি ষষ্ঠ দ্রুততম পাঁচ উইকেট। সবচেয়ে দ্রুত পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিও তার। ২০২৫ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
স্টেইনকে পেছনে ফেলে সেরা দশে
শরীফুলকে ফিরিয়ে নিজের টেস্ট উইকেটসংখ্যা ৪৪১-এ নিয়ে গেছেন স্টার্ক। পেছনে ফেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটকে। সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিদের সেরা দশে ঢোকার পাশাপাশি পেসারদের মধ্যে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছেন স্টার্ক।
৪২৬ থেকে ৬৪, পতন ৩৬২ রানের
ডারউনের প্রথম টেস্টে ৪২৬ রান করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরের টেস্টেই প্রথম ইনিংস থামল ৬৪ রানে। পার্থক্য ৩৬২ রানের। ম্যাকের ধস বোঝাতে আরেকটি সংখ্যাই যথেষ্ট, বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটারের সম্মিলিত রান এবং ১১ নম্বর শরীফুলের একার রান সমান ১৪।



