বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাইদুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকরাম সম্রাট।
ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এনএসসি এই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওঠা নানা অভিযোগ তদন্ত করবে এই কমিটি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া বিসিবির গঠনতন্ত্র এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
এনএসসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ক্লাব বা সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চাইতে পারবে তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে সুপারিশও দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ওই নির্বাচনে মোট ২৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে পরিচালকদের ভোটে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারি হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের কাউন্সিলররা এনএসসির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তোলেন। অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে তামিমসহ কয়েকজন পরিচালক প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
এরপর ঢাকার জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একটি অংশও একই ধরনের অভিযোগ জানালে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।