Advertisement

বাংলাদেশের কাছে হারের পর বাদ পড়ার শঙ্কায় দুই অজি তারকা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বাংলাদেশের কাছে হারের পর বাদ পড়ার শঙ্কায় দুই অজি তারকা
মার্নাস লাবুশেন। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশের কাছে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট হার। তাও আবার নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে। ডারউইনের এই বিপর্যয়ের মূল্য দিতে হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার জেক ওয়েদারাল্ড ও মার্নাস লাবুশেনকে। ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দুজনের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেইডেন ও মার্ক ওয়াহর মতো সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা।

Advertisement

ডারউইন টেস্টের আগে বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। চোটের কারণে দলে ছিলেন না পেসার নাহিদ রানাও। কিন্তু চার দিনের প্রায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ওয়েদারাল্ড ও লাবুশেন। নিজের শহরে খেলার সুযোগ পেয়েও ওপেনার ওয়েদারাল্ড দুই ইনিংসে করেছেন ২৩ ও শূন্য। তিন নম্বরে নামা লাবুশেনের রান ১ ও ৩১।

স্টিভ স্মিথ প্রথম ইনিংসে ৭১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৪ রানের ইনিংস। এই দুজন ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ ব্যাটারই বাজে শটে উইকেট হারিয়েছেন।

চ্যানেল সেভেনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক পন্টিং বলেন, ‘আমার মনে হয়, পরিবর্তন এখন অনিবার্য। আমি সাধারণত দল বদলের কথা সবার শেষে বলি। অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে সব সময় একটি দল ধরে রাখতে চেয়েছি।’

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর পুনর্গঠন শুরু করার সময় এসে গেছে বলেই মনে করেন পন্টিং, ‘যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে যে নতুন একজন ওপেনার ও তিন নম্বর ব্যাটারকে সুযোগ দিলে অস্ট্রেলিয়ার হারানোর তেমন কিছু থাকবে না।’

সাবেক ওপেনার হেইডেনও অস্ট্রেলিয়ার শুরুর তিন ব্যাটারের ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘এক, দুই ও তিন নম্বর একটি ব্যাটিং দলের ভিত্তি। তারা নিয়মিত ব্যর্থ হওয়ায় মাঝের সারির ওপর চাপ পড়ছে। স্মিথকে প্রয়োজনের অনেক আগেই ব্যাট করতে নামতে হচ্ছে। এসব প্রশ্নের উত্তর এখন দিতেই হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও স্বীকার করেছেন, দলের ব্যাটিং ঠিকভাবে কাজ করছে না। ম্যাকের দ্বিতীয় টেস্টের আগে ব্যাটারদের কৌশল ও পরিকল্পনা দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কামিন্স বলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের ব্যাটিং যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে করছে না। ব্যাটারদের একসঙ্গে বসে ভিডিও, পদ্ধতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে হবে। পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে দ্রুতই সেটি করতে হবে।’

তবে এক ম্যাচের ফল দেখে আবেগের বশে দল পরিবর্তন করতে চান না অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। সোমবার তিনি জানান, নির্বাচকেরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেরা একাদশ বেছে নেবেন।

ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘একটি টেস্ট হেরেছি বলেই হঠাৎ সবকিছু বদলে ফেলা হবে না। তবে অন্য কাউকে দলে নিলে একাদশ আরও শক্তিশালী হবে মনে করলে পরিবর্তন অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।’

লাবুশেনের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে উন্নতি দেখলেও বড় রান না পাওয়ায় হতাশ অস্ট্রেলিয়ার কোচ। তার ভাষায়, ‘আমরা রান চাই, এটিই মূল কথা। ৩১ রান পর্যন্ত তাকে ভালো দেখাচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ৩১-ই, বড় ইনিংস নয়। এখন তার বড় রান প্রয়োজন।’

মার্ক ওয়াহর মতে, দ্বিতীয় টেস্টে দুজনের জায়গা ধরে রাখার সম্ভাবনা এখন সমান সমান। তবে লাবুশেনের তুলনায় ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ার ঝুঁকি বেশি।

ওয়াহ বলেন, ‘ওয়েদারাল্ডকে নিয়েই আমার উদ্বেগ বেশি। কৌশলে পরিবর্তন আনতে গিয়ে সে নিজের কাজ কঠিন করে ফেলছে। লাবুশেনকে সম্ভবত আরও একটি সুযোগ দেওয়া যায়।’

ডারউইনে অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন জশ ইংলিস। তবে তাকে শীর্ষসারির ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ওয়েদারাল্ডের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ম্যাট রেনশ। লাবুশেন বাদ পড়লে তিন নম্বরে নাথান ম্যাকসুইনিকে ফেরানোর দাবিও উঠেছে।

আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়াকে সেখানে জিততেই হবে। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে নির্বাচকদের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে ওয়েদারাল্ড ও লাবুশেনের ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের কাছে হারের পর বাদ পড়ার শঙ্কায় দুই অজি তারকা