বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট পিসিবি, জরিমানার মুখে পাকিস্তান দল
-1772460101-5251_1772460117.webp)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে পুরো স্কোয়াডের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দলের প্রত্যেক সদস্যকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার) করে জরিমানা করা হয়েছে।
পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এই জরিমানা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে নয়; বরং টুর্নামেন্টে মাঠের পারফরম্যান্সকে ‘মানহীন’ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তান সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেয়, ফলে টানা চতুর্থবারের মতো আইসিসির কোনো পুরুষ আসরে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় দলটি, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম।
ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারের পরই জরিমানার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বোর্ড তখন খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেয়, সেমিফাইনালে উঠতে পারলে এই জরিমানা মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পাকিস্তান প্রথম পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠলেও সেখানে পথ কঠিন হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের কাছে হারে দলটি। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের বড় জয় পাকিস্তানকে সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও বড় ব্যবধানে জয় না পাওয়ায় সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়।
পিসিবি অতীতে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও সেগুলো সাধারণত শৃঙ্খলাজনিত কারণে ছিল। তবে এবারের সিদ্ধান্ত কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া, যা বিরল, এমনকি নজিরবিহীন বলেও মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বোর্ড প্রশাসন বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর কঠোর অবস্থান নেওয়ার নজির আগেও রেখেছে। এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর খেলোয়াড়দের দেওয়া এনওসি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সব খেলোয়াড়ের ওপর জরিমানা আরোপ করা হলেও ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বিশেষ করে সাহিবজাদা ফারহান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রানের নতুন রেকর্ড গড়েন এবং একই আসরে দুটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান।
তবে দলগত ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেনি পুরো স্কোয়াডই—এমন বার্তাই দিতে চায় পিসিবি।