logo

আইনি হুমকির মধ্যেও ভারত ম্যাচ বয়কটের দরজা খোলা রাখছে পাকিস্তান 

আইনি হুমকির মধ্যেও ভারত ম্যাচ বয়কটের দরজা খোলা রাখছে পাকিস্তান 

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ বয়কট করা হবে কি না, এই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। রাজনৈতিক, আইনি ও আর্থিক প্রভাব বিবেচনায় রেখে বিষয়টি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। সেখানে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ‘এ’ ম্যাচ বয়কটসহ সব সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরের সময় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গেও নাকভি বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেছেন। পাশাপাশি কয়েকজন সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যানের মতামত নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

পিসিবি সূত্র জানায়, পুরো টুর্নামেন্ট নয়, আপাতত শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেটিও নির্ভর করবে পাকিস্তানের প্রথম দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর। পাকিস্তান ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস এবং ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে।

একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।’

তবে এমন সিদ্ধান্তের বড় আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে। পিসিবির আইন উপদেষ্টারা নাকভিকে সতর্ক করেছেন যে, ভারতের জিওস্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আইসিসির প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান আইসিসির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবিকে নোটিশ দিতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে সব সদস্য বোর্ডের রাজস্ব বণ্টনের ওপর।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক চাপ, আইনি ঝুঁকি এবং আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে পিসিবি এখন কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখে। প্রথম দুই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করে দিতে পারে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হবে, নাকি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বয়কটের পথে হাঁটবে পাকিস্তান।