২১ জানুয়ারির সময়সীমা অস্বীকার করল বিসিবি

ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না— এই সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ২১ জানুয়ারির মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছে আইসিসি, এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত ডেডলাইন দেওয়া হয়নি। ফলে ‘বুধবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত’— এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক ভিত্তি পাচ্ছে না।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো শুক্রবার জানিয়েছিল, ঢাকায় বৈঠকের পর আইসিসি বিসিবিকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে এবং ওই দিনই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তবে মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমজাদ হোসেন বলেন, এমন কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, ‘১৭ জানুয়ারি আইসিসির প্রতিনিধি ঢাকায় এসে বৈঠক করেন। আমরা আবারও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি— ভারতের ভেন্যুতে খেলতে আমাদের অপারগতা রয়েছে এবং বিকল্প ভেন্যু চাই। তারা বলেছে বিষয়টি আইসিসিকে জানাবে এবং পরে সিদ্ধান্ত জানাবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বলেনি।’
মূল সংকটের শুরু মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর। এরপর ভারতীয় ভেন্যুতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে বিসিবি সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পরামর্শে আইসিসিকে চিঠি দেয়। আইসিসির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ভিডিও কনফারেন্স, সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় সরাসরি বৈঠক— কিন্তু সমাধান মেলেনি।
আইসিসির দুর্নীতি ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ঢাকায় এসে আবারও জানিয়ে যান— ভারতে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। কিন্তু বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কা বা ভারতের বাইরে খেলার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে— প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, একটি মুম্বাইয়ে। টুর্নামেন্ট শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি, ফাইনাল ৮ মার্চ।
এখন প্রশ্ন একটাই— আইসিসি কি সূচিতে ছাড় দেবে, নাকি বিসিবিকেই শেষ পর্যন্ত ভারতে যেতে হবে? আনুষ্ঠানিক ডেডলাইন না থাকলেও সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।