নাহিদকে নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বাংলাদেশ

চোট কাটিয়ে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন নাহিদ রানা। কিন্তু পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে নতুন করে ব্যথা অনুভব করায় আবারও অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের তারকা পেসারের প্রত্যাবর্তন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে ইতিমধ্যে ছিটকে গেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও খেলা অনিশ্চিত। তবে এখনই আশা ছাড়ছে না বাংলাদেশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে ব্যথার কারণ জানতে আবারও পরীক্ষা করানো হচ্ছে ২৪ বছর বয়সী এই পেসারকে। তবে কবে নাগাদ তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না নির্বাচকেরা।
বাশার জানান, বিসিবির পরিকল্পনা ছিল ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে নাহিদকে খেলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আবারও ব্যথা অনুভব করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আপাতত ত্রিদেশীয় সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে না।
গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছিলেন নাহিদ। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে নিতম্বের কাছাকাছি অংশে নতুন করে ব্যথা অনুভব করায় তার মাঠে ফেরা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পেসারকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করতে নারাজ বিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চললেও পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চান না নির্বাচকেরা।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘অবশ্যই আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করব। একই সঙ্গে সে আমাদের সম্পদ। তাকে দ্রুত ফেরাতে গিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’
নাহিদের নতুন করে ব্যথার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। প্রাথমিকভাবে কাতারের একটি বিশেষায়িত ক্রীড়া চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতায় বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
বাশার সাংবাদিকদের জানান, নাহিদের স্ক্যান করানো হচ্ছে। পরীক্ষার ফল ও চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদেশেও পাঠানো হতে পারে। তবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো ঠিক করা যায়নি।
আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে অন্তত একটি ম্যাচে নাহিদকে পাওয়ার আশা করছেন নির্বাচকেরা।