ক্রিকেটের একগুচ্ছ নিয়ম বদলাল আইসিসি

টেস্ট ক্রিকেটে বড় পরীক্ষামূলক পরিবর্তন আনল আইসিসি। এখন থেকে দুই দলের সম্মতি থাকলে দিনের আলোয় হওয়া টেস্টেও ব্যবহার করা যাবে গোলাপি বল। পাশাপাশি সময় নষ্ট ঠেকাতে ব্যাটসম্যানদের জন্য চালু হচ্ছে কঠোর শাস্তি। ১ অক্টোবর বা তার পর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজ থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়মগুলো।
দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য খারাপ আলোয় খেলা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমানো। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দল সম্মত হলে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে একবার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে ম্যাচের মাঝপথে বলের রং আর বদলানো যাবে না।
পুরুষদের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের সময়ক্ষেপণের বিরুদ্ধেও কড়া হচ্ছে আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরের বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না থাকলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে ব্যাটসম্যানকে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কতা। তৃতীয়বার এবং এরপর প্রতিটি অপরাধে ফিল্ডিং দল পাবে পাঁচ রান করে পেনাল্টি।
বারবার একই অপরাধ করলে আচরণবিধির আওতায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
২০২৫ সালে লর্ডস টেস্টে ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল ও ইংল্যান্ড ওপেনার জ্যাক ক্রলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর সময় নষ্টের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। দিনের শেষ ওভারের আগে ক্রলি ও বেন ডাকেট দেরিতে ক্রিজে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন গিল।
টেস্টে দিনের শেষ ওভার নিয়েও বদল এসেছে। আগে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে অনেক ক্ষেত্রে সেখানেই দিনের খেলা শেষ হয়ে যেত। নতুন নিয়মে পরিবেশ উপযোগী থাকলে উইকেট পড়ার পরও ওভারের বাকি বলগুলো সেদিনই করতে হবে।
রানআউট ও স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রেও বলের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যাখ্যা আরও পরিষ্কার করেছে আইসিসি। শুধু বল স্পর্শ করে বেল ফেলে দিলেই আর আউট হবে না। স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে ফিল্ডারের হাতে বলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।
মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বলের আকার ও ওজনও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরুষদের নতুন বলের ওজন হতে হবে ১৫৬ থেকে ১৬৩ গ্রাম এবং পরিধি ২২.৪ থেকে ২২.৯ সেন্টিমিটার। মেয়েদের বলের ওজন হবে ১৪২ থেকে ১৪৯ গ্রাম, পরিধি ২১.৫ থেকে ২২ সেন্টিমিটার।
টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতির সময় এখন নির্ধারিত ১৫ মিনিট। তবে সময় নষ্ট হলে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
সাদা বলের ক্রিকেটে ওয়াইডের পরীক্ষামূলক নিয়মটিও স্থায়ী করা হয়েছে। ব্যাটসম্যান বল ছাড়ার আগে বা বল করার সময় নড়াচড়া করলে ওয়াইড নির্ধারণে ডেলিভারির মুহূর্তে তাঁর পায়ের অবস্থানকেই বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির ড্রিংকস বিরতিতে প্রধান কোচ বা তার মনোনীত প্রতিনিধি মাঠে ঢুকতে পারবেন।
আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গৌরব সাক্সেনা বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সত্যিকারের যৌথ উদ্যোগ। আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে খেলার শর্তগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি আইনের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।”
নতুন নিয়মগুলো ১ অক্টোবর বা তার পর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজে প্রযোজ্য হবে। যেসব সিরিজ এর আগেই শুরু হয়েছে, সেগুলো চলবে পুরোনো নিয়মে।
