কেন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন, জানালেন জ্যোতি

এশিয়ান গেমস শেষেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়বেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। সিদ্ধান্তটি আগেই বিসিবিকে জানিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এবার ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর নেতৃত্ব ছাড়ার কারণও পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ডের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই জ্যোতি নেতৃত্ব ছাড়ছেন, এমন আলোচনা ছিল। তবে সেই ধারণা সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘না, ক্ষোভ বা কষ্ট থেকে পদত্যাগ করার খবরটি একেবারেই সত্য নয়। একজন ব্যাটার ও খেলোয়াড় হিসেবে দেশ ও দলকে দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু বাকি আছে আমার। তাই আমি সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চাই, আর সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিসিবিকে ই-মেইলে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন জ্যোতি। তখনও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার জন্যই টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান তিনি। তবে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।
রোববার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১১৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ভারতের ১৯৫ রানের জবাবে ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় জ্যোতিদের ইনিংস।
ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘যখন পুরো দল এত কম রানে অলআউট হয়ে যায়, তখন ব্যাটার হিসেবে আমরা নিশ্চিতভাবেই কোনো দায়িত্ব নিতে পারিনি। টপ অর্ডারের অন্তত একজন ব্যাটারও যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকত, তাহলেও বোর্ডে আরও কিছু রান যোগ হতো।’
প্রস্তুতির ঘাটতিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বৃষ্টির কারণে জাপানে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পায়নি দল। চীনের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচও মাঠে গড়ায়নি, পরে প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়।
জ্যোতির ভাষায়, ‘এখানে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা একেবারেই ছিল না। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারলে পুরো দলের জন্যই খুব ভালো হতো। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, পুরো দলই খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছে।’
ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারালেও এখনো পদকের আশা শেষ হয়নি বাংলাদেশের। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির শেষ ম্যাচ।
