Advertisement

বুমরাহ-সুদর্শনের চোট নিয়ে প্রশ্ন, সাফাই দিলেন লক্ষ্মণ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বুমরাহ-সুদর্শনের চোট নিয়ে প্রশ্ন, সাফাই দিলেন লক্ষ্মণ
সাই সুদর্শন ও জাসপ্রীত বুমরাহ। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে শর্তসাপেক্ষে জায়গা পেয়েছিলেন জাসপ্রীত বুমরাহ ও সাই সুদর্শন। কিন্তু সফরের আগে ফিটনেস ছাড়পত্র না পাওয়ায় দুজনকেই দল থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোনো সমন্বয়হীনতা ছিল না বলে দাবি করেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ।

Advertisement

বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান লক্ষ্মণের বক্তব্য, একজন ক্রিকেটারের সে রে ওঠার নির্দিষ্ট সময়সীমা সব সময় মেনে চলবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ মানুষের শরীর যন্ত্র নয়।

আগামী দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় রয়েছে ভারত। গত ২৮ জুলাই দল ঘোষণার সময় বুমরাহ ও সুদর্শনকে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তে রাখা হয়েছিল। পরে নির্ধারিত সময়ে সুস্থ হতে না পারায় দুজনই ছিটকে যান।

বুমরাহর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়েছে পেসার আকিব নবীকে। সুদর্শনের বিকল্প হিসেবে এখনো কাউকে ঘোষণা করেনি বিসিসিআই।

লক্ষ্মণ জানিয়েছেন, সেন্টার অব এক্সেলেন্স, জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়াবিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিভাগ এবং নির্বাচকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কোনো খেলোয়াড়ের ফিটনেস সম্পর্কে জানতে নির্বাচকেরা সেন্টার অব এক্সেলেন্সের কাছে প্রতিবেদন চান। সেটির অনুলিপি নির্বাচক কমিটির প্রধান, দলের প্রধান কোচ ও বিসিসিআইয়ের কাছেও পাঠানো হয়।

বুমরাহ ও সুদর্শনের দলে থাকার পাশেও ফিটনেসের শর্ত যুক্ত ছিল বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন লক্ষ্মণ।

তিনি বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো খেলোয়াড়ের নামের পাশে তারকা চিহ্ন থাকলে সেটির অর্থ ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তে তাকে নেওয়া হয়েছে। বুমরাহ ও সুদর্শনের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছিল।’

পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনো ক্রিকেটার প্রত্যাশার চেয়ে ধীরে এগোলে বিষয়টি নির্বাচক ও প্রধান কোচকে জানানো হয়। লক্ষ্মণের দাবি, বুমরাহ ও সুদর্শনের ক্ষেত্রেও সেই যোগাযোগ ঠিকভাবেই হয়েছে।

চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটার। প্রথমে চিকিৎসকের মাধ্যমে চোটের ধরন নির্ধারণ করা হয়। এরপর পুনর্বাসন, শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্রিকেটীয় দক্ষতার অনুশীলন শুরু হয়। ধীরে ধীরে কাজের চাপ বাড়ানোর পর মাঠে ফেরার অনুমতি পাওয়ার আগে ক্রিকেটারকে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে হয়।

লক্ষ্মণ বলেন, ‘এক ধাপ থেকে পরের ধাপে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। সম্ভাব্য সময়সীমা দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের শরীর যন্ত্র নয়। তাই প্রতিবার সেই সময়ের মধ্যেই সবকিছু হবে, এমন নয়।’

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াও লক্ষ্মণের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তার ব্যাখ্যা, সাধারণত দলের সফরের তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে নির্বাচক সভা হয়। তখন পুনর্বাসনে থাকা কোনো খেলোয়াড় সফরের আগে সুস্থ হবেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয় না।

এ কারণেই সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিকভাবে বাদ না দিয়ে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তে দলে রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ে ছাড়পত্র না পেলে প্রস্তুত রাখা বিকল্প ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়।

বুমরাহ-সুদর্শনের চোট নিয়ে প্রশ্ন, সাফাই দিলেন লক্ষ্মণ