হাতকড়া পরা ভিডিও ভাইরাল, ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ কার্স

নৈশক্লাবের বাইরে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েছেন পেসার ব্রাইডন কার্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্টের দলে থাকছেন না ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্বাধীন ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্সকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দলে ডাকা হয়েছে সনি বেকারকে।
শনিবার রাতে ডার্বির একটি নৈশক্লাবের বাইরে কার্সকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় দেখা যায়। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। কেন পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়েছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
এক বিবৃতিতে ইসিবি জানিয়েছে, ‘তদন্ত চলাকালে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টের নির্বাচনের জন্য ব্রাইডন কার্সকে পাওয়া যাবে না।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলির প্রথম টেস্টের ইংল্যান্ড দলে ছিলেন কার্স। তবে একাদশে জায়গা না পাওয়ায় ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে কাউন্টি ম্যাচ খেলতে তাকে ডারহামের হয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ডারহামের জয়ের পরই নৈশক্লাবের ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় পর লন্ডনে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কার্সের। কিন্তু তদন্ত শুরু হওয়ায় লর্ডস টেস্টের পরিকল্পনা থেকে তাকে সরিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
এই গ্রীষ্মে শৃঙ্খলাজনিত কারণে টেস্ট ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়া তৃতীয় ইংলিশ ক্রিকেটার কার্স। এর আগে লন্ডনের একটি নৈশক্লাবের ঘটনা তদন্তের সময় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন। পরে দুজনকেই লিখিতভাবে সতর্ক করেছিল ইসিবি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বলেছিলেন, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব সব সময় সর্বোত্তমভাবে করতে হয়। ভালো আদর্শ ও ভালো মানুষ হওয়ার দায়িত্বও আমাদের।’
এর আগে ২০২৪ সালে পুরোনো বাজিসংক্রান্ত অপরাধের কারণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন কার্স। পরে তিন সংস্করণেই ইংল্যান্ডের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেস্ট অভিষেকের পর ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
লর্ডসে কার্সের একাদশে থাকার সম্ভাবনা অবশ্য খুব বেশি ছিল না। হেডিংলিতে খেলা চার মূল পেসারের বিকল্প হিসেবে থাকার কথা ছিল তার। এবার সেই জায়গাটি পাচ্ছেন ২৩ বছর বয়সী বেকার, যিনি গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট খেলেছিলেন।



