logo

রাজনীতিতে নিজেকে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ মানেন না সাকিব

রাজনীতিতে নিজেকে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ মানেন না সাকিব
সাকিব আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মাঠে সাকিব আল হাসান অনেকবার কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু এবার প্রশ্নটা ক্রিকেটের ছিল না, ছিল তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে। জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক দল তাকে সামনে এনেছে কি না, তিনি নিজেকে ব্যবহৃত মনে করেন কি না, সাঈদ জামানের ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্ট অফস্ক্রিন উইথ সাইদ জামানে এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব সরাসরিই জানালেন, বিষয়টি তিনি এভাবে দেখেন না।

সাকিব বলেছেন, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত তার নিজের। কেউ তাকে জোর করেনি, কেউ নিয়ে যায়নি, এমনকি কেউ অনুরোধও করেনি। নিজের ইচ্ছা থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন।

সাকিব বলেন, ‘আমার কাছে এটা কখনোই মনে হয় না। আমি এটা বিশ্বাস করি না। কেউ আমাকে ফোর্স করেনি, কেউ আমাকে নিয়ে যায়নি, কেউ আমাকে রিকোয়েস্ট করেনি। এটা আমার নিজের ইচ্ছা থেকেই।’

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে সাকিবের জনপ্রিয়তা সব সময়ই ছিল বড় সম্পদ। সেই জনপ্রিয়তাকে কোনো রাজনৈতিক দল কাজে লাগিয়েছে কি না, এমন আলোচনা গত কয়েক বছর ধরেই হয়েছে। পডকাস্টে প্রশ্নটি সরাসরি উঠলে সাকিব জানান, জনপ্রিয়তার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না, তবে এটিকে ‘ব্যবহৃত হওয়া’ হিসেবে দেখছেন না।

নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সাকিব বলেন, তিনি মনে করেছিলেন ওই দলের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে যুক্ত থাকলে দেশের জন্য, বিশেষ করে নিজের এলাকা মাগুরার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। তার বিশ্বাস ছিল, সেই জায়গা থেকে ভালো একটি পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সাকিব বলেন, ‘আমার এই দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটা কারণ হচ্ছে, আমি মনে করেছি এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আমি দেশের হয়ে কাজ করতে পারব, আমার এলাকার হয়ে কাজ করতে পারব এবং একটা ভালো ডিফারেন্স মেক করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলছি না অন্য কোনো দল সঠিক না। কিন্তু সঠিক হলেও তো দুইটা সঠিকের একটা সঠিক আপনাকে চুজ করতে হবে। সেই জায়গা থেকে আমার চুজ করা। আমি মনে করি, আমি ভুল কিছু করিনি।’

সাকিবের রাজনীতিতে আসা নিয়ে তার ভক্তদের মধ্যেও দ্বিধা ছিল। অনেকেই মনে করেন, খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে এলে বিতর্ক কম হতো। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, খেলোয়াড়ি জীবনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই কি তিনি নির্বাচনে গিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গেও সাকিব নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন তিনি পুরো বাংলাদেশ থেকে করেননি, করেছেন মাগুরা থেকে। তার ভাষায়, মাগুরায় তিনি কখনও শুধু ‘সাকিব আল হাসান’ ছিলেন না, ছিলেন ‘ফয়সাল’। জন্মস্থান, পৈতৃক এলাকা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই তার রাজনৈতিক যাত্রার বড় ভিত্তি ছিল।

সাকিব বলেন, ‘মানুষ সঠিকভাবে ভাবছে না যে আমি মনে হয় পুরো বাংলাদেশ থেকে ইলেকশনটা করেছি। ইলেকশনটা আমি করেছি মাগুরা থেকে। মাগুরাতে আমি জন্মের পর থেকেই ছিলাম। আমি কখনও মাগুরাতে সাকিব আল হাসান হইনি, আমি সব সময় মাগুরাতে ফয়সাল ছিলাম।’

রাজনীতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নেও সাকিব নেতিবাচক উত্তর দেন। তার মতে, রাজনীতি নিজে খারাপ কিছু নয়। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে রাজনীতি মানুষের সেবা ও বড় পরিবর্তনের জায়গা হতে পারে।

সাকিব বলেন, ‘রাজনীতি করাটা খারাপ কিছু বলে আমার কাছে মনে হয় না। আমার ইচ্ছা ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে যে এমন কিছু ডিফারেন্স মেক করব, যেটা থেকে মানুষ উৎসাহিত হবে যে রাজনীতি করে ভালো কিছু করা যায়।’

তিনি রাজনীতিকে নীতিনির্ধারণের জায়গা হিসেবেও দেখেন। তার মতে, শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়, সঠিক নীতি তৈরি করেও একটি এলাকা বা দেশের মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলা যায়।