৩৫ বলে অভিষেকের সেঞ্চুরি, পাওয়ারপ্লেতে বিশ্বরেকর্ড ভারতের

নিউজিল্যান্ডের বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে ভারত। ওয়েলিংটনে ৩৫ বলে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন অভিষেক শর্মা। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১১৩ রান করে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতেই ১১৮ রান তুলেছে ভারত। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে প্রথম ছয় ওভারে এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। শুধু তা-ই নয়, মাত্র পাঁচ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করেও নতুন রেকর্ড গড়েছে সফরকারীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ওয়েলিংটনে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের হয়ে ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন ড্যারিল মিচেল। এ ছাড়া ফিন অ্যালেন ৪০ এবং বেভন জ্যাকবস অপরাজিত ৩৯ রান করেন।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন অভিষেক ও বৈভব। মাত্র ২.২ ওভারে দলীয় ফিফটি পূর্ণ করে ভারত। এরপর পাঁচ ওভারে ১০০ এবং পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তুলে নতুন ইতিহাস গড়ে সফরকারীরা।
আগের রেকর্ডটি ছিল রোমানিয়ার। ২০২১ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫.৪ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৬ রান তুলে জয় পেয়েছিল দলটি। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল ভারত। পাশাপাশি নিজেদের দ্রুততম দলীয় ফিফটির রেকর্ডও গড়েছে তারা।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির প্রথম ওভারেই ২৬ রান তুলে নেন দুই ভারতীয় ওপেনার। পরের ওভারগুলোতেও একইভাবে চলে বাউন্ডারির বৃষ্টি।
মাত্র ১৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক। চতুর্থ ওভারে কাইল জেমিসনকে ছক্কা মেরে ব্যক্তিগত অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি। এরপরও বিন্দুমাত্র কমেনি তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। একের পর এক চার-ছক্কায় নিউজিল্যান্ডের বোলারদের দিশেহারা করে দেন ভারতীয় ওপেনার।
অন্য প্রান্তে অভিষেককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন বৈভব। ১৯ বলে চারটি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৫ রান করেন এই কিশোর। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৬.৮৪। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪৩ বলে আসে ১৩৩ রান। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে ম্যাথু ফিশারের শিকার হয়ে ফেরেন বৈভব। ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত ক্যাচে থামে তার ঝোড়ো ইনিংস।
সঙ্গী ফিরে গেলেও নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান অভিষেক। নবম ওভার শেষে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে ছিলেন তিনি। দশম ওভারে জেমিসনের তৃতীয় বলে চার মেরে ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন ভারতীয় ওপেনার। এরপর ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফুটবলার আর্লিং হলান্ডের পরিচিত মেডিটেশন উদ্যাপনের ভঙ্গিতে নিজের সাফল্য উদ্যাপন করেন তিনি।
তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অভিষেক। দশম ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে গ্লেন ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দেন। ৩৮ বলে ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো তার ১১৩ রানের ইনিংস থামে ২৯৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে।
অভিষেক যখন আউট হন, তখন মাত্র ১০ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৭৮ রান। জয়ের জন্য তখন আরও ২১ রান প্রয়োজন ছিল সফরকারীদের।
ভারতের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন পাওয়ারপ্লের বিশ্বরেকর্ড। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভারে সর্বোচ্চ ১১৬ রান ছিল রোমানিয়ার। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল অস্ট্রেলিয়ার ১১৩ রান। ২০২৪ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই সংগ্রহ গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
এবার এক লাফে সব রেকর্ড পেছনে ফেলেছে ভারত। শুধু সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহই নয়, সবচেয়ে কম বলে দলীয় শতরান পূর্ণ করার কীর্তিও গড়েছে তারা। নথিভুক্ত বল-বাই-বল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কোনো দল মাত্র পাঁচ ওভারে শতরান পূর্ণ করতে পারেনি।
এদিকে অভিষেকের এই ইনিংসও তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত সেপ্টেম্বরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতকের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও দেখালেন নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ওয়েলিংটনে নেমেছে ভারত। প্রথম ম্যাচে ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়েছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচেও চার উইকেটে জয় পায় শ্রেয়াস আইয়ারের দল।
তৃতীয় ম্যাচেও অভিষেক ও বৈভবের ব্যাটিংয়ে সেই আধিপত্য আরও একবার ফুটে উঠেছে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে নতুন ইতিহাস লিখেছে ভারত।


-e7dd1e.webp)