logo

টি-টোয়েন্টির যুগেও টেস্ট ক্রিকেটই বেশি খেলতে চান শান্ত

টি-টোয়েন্টির যুগেও টেস্ট ক্রিকেটই বেশি খেলতে চান শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত খেলতে পারবেন কি না, কয়েক দিন আগেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। জাপানে অসুস্থ হয়ে এশিয়ান গেমস থেকে দেশে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ককে। তবে ম্যাচের আগের দিন নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বস্তির খবর দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, এখন পুরোপুরি সুস্থ বোধ করছেন। আবুধাবির প্রচণ্ড গরমকেও পারফরম্যান্সের অজুহাত বানাতে চান না।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্ট। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজের সুস্থতা, দলের প্রস্তুতি ও কন্ডিশন নিয়ে কথা বলেন শান্ত।

জাপানে এশিয়ান গেমস চলাকালে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন শান্ত। কয়েক দিন ধরে জ্বর না কমায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে অনুশীলন শুরু করেন। সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও পাঁচ দিনের টেস্ট খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা ছিল।

এখন অবশ্য নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। কন্ডিশন একটু গরম, এটা থাকবে। কিন্তু আমরা পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটাকে কোনোভাবেই অজুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়রাও এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না।’

নিজের সুস্থতা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে রিকভারি ভালো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন সুস্থ আছি। গত দুই দিন অনুশীলন করে ভালো অনুভব করছি।’

আবুধাবির উইকেটও একবার দেখেছেন শান্ত। তার ধারণা, উইকেট কিছুটা মন্থর হলেও ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো হতে পারে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘উইকেট গতকাল একটু দেখার সুযোগ হয়েছে। আজ আরও একটু দেখব। দেখে ভালো মনে হয়েছে। হয়তো একটু মন্থর থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয়, ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। আশা করছি খুব ভালো একটা টেস্ট ম্যাচ হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তার মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ ধরে রাখার প্রসঙ্গও। শান্ত মনে করেন, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের প্রভাব থাকলেও ক্রিকেটারদের কাছে টেস্টের গুরুত্ব কমে যায়নি।

তিনি বলেন, ‘এখনকার সময়ে বিষয়টা কঠিন। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কিছু করার নেই। ছোটবেলা থেকে আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখেছি। বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে জিজ্ঞেস করলেও একই কথা বলবে। একজন খেলোয়াড়ের কাছে টেস্ট ক্রিকেট সব সময়ই বিশেষ।’

তিন সংস্করণের মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দের কথাও জানিয়েছেন শান্ত। তার ইচ্ছা, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের তুলনায় আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার।

তরুণ ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তরুণরাও টেস্ট খেলতে চায়। তবে বিশ্ব ক্রিকেট যেদিকে যাচ্ছে, তাতে তারা সংক্ষিপ্ত সংস্করণের কথাও ভাবছে। এখন তরুণদের সঙ্গে কথা বললে দেখি, তারা তিন সংস্করণেই খেলতে চায়। অবশ্য টি-টোয়েন্টি একটু বেশি খেলতে চায়, সেটা আলাদা ব্যাপার।’

শান্তর মতে, এখনকার ক্রিকেটারদের সফল হতে হলে টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য নিজেদের দক্ষতা আলাদাভাবে মানিয়ে নিতে হবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াই নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর আমরা টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। আমরা খুবই রোমাঞ্চিত। আমার বিশ্বাস, দুই দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে চাইবে। বাংলাদেশ দল হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করি, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’