বিশ্বকাপ ভাবনায় নতুন পরিকল্পনায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান

নতুন চক্রের শুরু, সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঢাকায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজ দুই দলের জন্যই এক ধরনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বিশ্বকাপের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তান দলে বড় পরিবর্তন এনেছে। ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটারকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তরুণদের সুযোগ দিচ্ছে তারা।
অন্যদিকে প্রায় তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারেনি দলটি। তাই নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়েই পাকিস্তান সিরিজে নামছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশ কোচিং স্টাফ বিশেষ করে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মাঝের ওভারগুলোতে উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। সেই লক্ষ্যেই মিডল অর্ডারে নতুন কম্বিনেশন চেষ্টা করা হচ্ছে। দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন, যারা মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওপেনিংয়ে আক্রমণাত্মক শুরু এনে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের ওপর। এরপর মিডল অর্ডারে স্থিতি আনার দায়িত্ব থাকবে লিটন, আফিফ ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের।
বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের শক্তি মূলত পেস আক্রমণেই। তাসকিন, মুস্তাফিজ ও রিশাদ মিলে অধিকাংশ ওভার করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে স্পিন বিভাগে দায়িত্বে থাকবেন মিরাজ ও তানভির।
অন্যদিকে পাকিস্তানের দলে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে নতুন ব্যাটিং লাইনআপ। ওপেনিং ও টপ অর্ডারে দেখা যেতে পারে সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও শামিল হোসেনকে। তাদের অভিষেক হতে পারে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই।
এই তরুণদের অভিজ্ঞতার অভাব পূরণে বড় দায়িত্ব থাকবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগার ওপর।
পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির কাছ থেকেও বড় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন বলে আক্রমণ নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে তাকে।
তিন ম্যাচের সিরিজের সবগুলোই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচ ১১ মার্চ, পরের দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ মার্চ।
এই সিরিজ তাই শুধু আরেকটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়—বরং দুই দলের জন্যই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরীক্ষামঞ্চ।