logo
Advertisement

‘এখনকার টেস্ট দল আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ’

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘এখনকার টেস্ট দল আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ’
মুশফিকুর রহিম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সম্প্রতি টেস্টে ভালো করছে বাংলাদেশ। তাইতো টেস্ট দল নিয়ে আশার সঞ্চার হচ্ছে ভক্তদের মধ্যে; সেই দলে আছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও। বিশেষ করে বোলিং আক্রমণের গভীরতা ও বৈচিত্র্যকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তার মতে, বর্তমান বাংলাদেশ দলের হাতে এখন এমন বোলিং শক্তি আছে, যা যে কোনো কন্ডিশনে ২০ উইকেট নেওয়ার বিশ্বাস তৈরি করে।

Advertisement

সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ বরাবরই শক্তিশালী ছিল। তবে এখন পেস বোলিং বিভাগও সেই শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে দলের ভারসাম্য আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

মুশফিকের ভাষায়, ‘আমাদের বোলিং ডিপার্টমেন্টে ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো। স্পিনাররা তো বরাবরই আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু যখন বোলিং ডিপার্টমেন্টে এই (পেস) অস্ত্রটা যোগ হয়, তখন এটা অবশ্যই অধিনায়কের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।’

নিজের অধিনায়কত্বের সময়ের সঙ্গেও বর্তমান দলের তুলনা টেনেছেন মুশফিক। তার মতে, তখন দলে ভালো ব্যাটসম্যান থাকলেও একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর বোলিং বিকল্প ছিল না। এখন পেস ও স্পিন মিলিয়ে বাংলাদেশ এমন অবস্থানে আছে, যেখানে প্রতিপক্ষকে দুই ইনিংসে অলআউট করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।

‘আমি যখন ক্যাপ্টেন ছিলাম, হয়তো আমার কাছে ব্যাটসম্যান ছিল। কিন্তু ২০ উইকেট নেওয়ার মতো এরকম চারজন বোলার ছিল না। আমার কাছে হয়তো একসঙ্গে দুজন ছিল, তো আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত’, বলেছেন মুশফিক।

তবে শুধু বোলিং শক্তি থাকলেই হবে না, ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। মুশফিকের মতে, ব্যাটাররা যদি ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে পারেন, তাহলে বর্তমান বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশকে যে কোনো ম্যাচে ফলের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের ব্যালান্স ও ভ্যারাইটি অনেক। যে কোনো কন্ডিশনে, স্পোর্টিং উইকেট হোক, সেখানে রেজাল্ট বের করতে এটা সুবিধা করে দেবে। শুধু আমাদের ওই পাঁচটা দিন এক্সিকিউট করতে হবে।’

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও বলেছেন মুশফিক। তার মতে, গত কয়েক বছরে দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ছাপ এসেছে। তবে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘ইমপ্রুভমেন্টটা এখন পর্যন্ত খুব ভালো। কিন্তু সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে কনসিস্টেন্সি। দল হিসেবে যদি আমরা আগামী দু-তিন বছর এটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে টেস্ট দল আরও ভালো অবস্থানে যাবে,’ বলেন মুশফিক।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এবার সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই লক্ষ্য। মুশফিক মনে করেন, বর্তমান দলের বড় শক্তি হলো এক-দুজনের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়া। এখন দলে নিয়মিত পারফর্মারের সংখ্যা বেড়েছে, যা কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

বিষয় :
‘এখনকার টেস্ট দল আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ’