সিলেট টেস্টের আগে বাবরকে নিয়ে সুখবর দিলেন সরফরাজ

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের অন্যতম বড় ভরসা বাবর আজম ছিলেন না। হাঁটুর চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ মিস করেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তবে সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে তাকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলেন পাকিস্তানের লাল বলের কোচ সরফরাজ আহমেদ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ জানিয়েছেন, বাবর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে একাদশ চূড়ান্ত করা হবে টসের পর, কন্ডিশন দেখে।
সরফরাজ বলেন, ‘বাবর আজম দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত। কন্ডিশন পরিষ্কারভাবে বোঝার পর, টসের সময় আমরা একাদশ নিশ্চিত করব। আবহাওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সুযোগ পেলে আমরা যে ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি, সেটাই খেলতে চাই এবং পূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামতে চাই।’
হাঁটুর চোটে মিরপুরের প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি বাবর। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। পাকিস্তান শিবিরের আশা ছিল, সিলেট টেস্টের আগে ফিট হয়ে উঠবেন দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। সরফরাজের কথায় সেই সম্ভাবনাই আরও উজ্জ্বল হলো।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানে হারের পর চাপে আছে পাকিস্তান। সিরিজে ফিরতে হলে সিলেটে জিততেই হবে সফরকারীদের। এমন অবস্থায় বাবরের ফেরা পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দুটিই যোগ করবে।
মিরপুর টেস্টের ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা লুকাননি সরফরাজ। তবে সমালোচনায় কান না দিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার কথাই বলেছেন তিনি। পাকিস্তান কোচ বলেন, প্রথম টেস্টের পর দল হিসেবে তারা হতাশ, তবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস আছে। বাইরের সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা তাদের মনোযোগ নষ্ট করছে না।
সরফরাজের ভাষায়, ‘প্রথম টেস্টের পর আমরা দল হিসেবে খুব হতাশ। তবে পরের ম্যাচে ফিরে আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। পারফরম্যান্স ভালো না হলে সমালোচনা হবেই। সাবেক খেলোয়াড়দের মন্তব্য আমাদের প্রভাবিত করছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়েও আমরা ভাবছি না। আমাদের পুরো মনোযোগ পরের ম্যাচে।’
সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছেন পাকিস্তান কোচ। তার মতে, কঠিন সময়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বাবরের পাশাপাশি মোহাম্মদ রিজওয়ানের কাছ থেকেও বড় অবদান প্রত্যাশা করছেন তিনি।
সরফরাজ বলেন, বাবর পিএসএলে টেকনিক্যালি ভালো অবস্থায় ছিলেন এবং মানসিকভাবেও সতেজ আছেন, যা পাকিস্তানের জন্য ইতিবাচক। রিজওয়ান ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ভূমিকাতেই পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলেও আশা তার।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬৩ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়। এবার সিলেটে সিরিজ বাঁচাতে নামবে পাকিস্তান, আর সেই লড়াইয়ে বাবর আজমের ফেরা হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
