আহমেদাবাদে কি অস্ট্রেলিয়ার পথেই হাঁটবে নিউজিল্যান্ড

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে শুধু একটি ভেন্যু নয়, স্মৃতিরও ভার বহন করে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এখানেই স্বাগতিক ভারতের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রায় এক লাখ দর্শকের সামনে সেই হতাশা এখনও ভুলে যেতে পারেননি অনেকেই।
দুই বছর পর আবারও একই মঞ্চে বিশ্বকাপ ফাইনাল। রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ফাইনালে এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। তাই প্রশ্নটা আবার সামনে চলে এসেছে—আহমেদাবাদে কি আবারও নীরব হবে গ্যালারি, নাকি এবার ইতিহাস বদলাবে বুমরাহ-স্যামসনরা?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তি বারবার প্রমাণ করেছে ভারত। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে দলটি এবার শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা ধরে করার সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে।
তবে ফাইনালের আগে কিছু প্রশ্নও রয়েছে ভারতের দলে। ওপেনার অভিষেক শর্মা টুর্নামেন্টে প্রত্যাশামতো রান পাননি। একইভাবে স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্সও খুব ধারাবাহিক নয়। তবু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দলটি একই একাদশ ধরে রাখার দিকেই ঝুঁকছে।
ভারতের জন্য বড় ভরসা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন সঞ্জু স্যামসন।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বরাবরের মতোই শান্ত, কিন্তু কার্যকর। সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে কিউইরা। দলের ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট শুরুতেই দ্রুত রান তুলতে পারলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ম্যাচের আগে বলেন, স্বাগতিক ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। সুযোগ পেলে সেই চাপই কাজে লাগাতে চায় তার দল।
পিচও ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি উইকেটটি ব্যাটিং সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ফাইনালে বড় স্কোরের ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সন্ধ্যার পর শিশির বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে, যা টসের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, আইসিসি ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের স্মৃতিও মন্দ নয়। গত ছয় বছরে তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে এটি দুই দলের তৃতীয় আইসিসি ফাইনাল। এর আগে ২০২১ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড, আর ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে জয় পেয়েছিল ভারত।
সব হিসাব-নিকাশের বাইরে, ফাইনাল নির্ধারণ হবে মাঠেই। আর সেখানে এক মুহূর্তই বদলে দিতে পারে ম্যাচের গল্প। প্রশ্ন শুধু একটাই—আহমেদাবাদে কি আবারও ইতিহাস লিখবে নিউজিল্যান্ড, নাকি এবার সেই গল্প বদলে দেবে ভারত?