বাংলাদেশের প্রশংসায় অশ্বিন, মুগ্ধ অস্ট্রেলীয়রাও

প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে নেমে তাদের সম্ভাবনা নিয়েও তাই আশাবাদী ছিলেন না অনেকে। অথচ ডারউইন টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষে সেই বাংলাদেশই অস্ট্রেলিয়াকে ঠেলে দিয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতে। টাইগারদের এমন ঘুরে দাঁড়ানোয় মুগ্ধ সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকেরাও।
বাংলাদেশের প্রশংসায় যোগ দিয়েছেন ভারতের সাবেক অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পেছনের পায়ে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। এমন কিছু কারও চিত্রনাট্যেই ছিল না।’
প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতার প্রসঙ্গও টেনেছেন অশ্বিন। মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া একটি দল কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বদলে যেতে পারে, বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে তার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
অশ্বিন লিখেছেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর প্রথম টেস্টের প্রথম দুই দিন দাপট দেখানো, কী অসাধারণ ঘুরে দাঁড়ানো। টেস্ট ক্রিকেট দীর্ঘজীবী হোক।’
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট লেখক ও বিশ্লেষক জিওফ লেমনও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। দ্য গার্ডিয়ানের সরাসরি ধারাভাষ্যে তিনি লিখেছেন, প্রথম দিনের সাফল্যকে আকস্মিক ঘটনা মনে করার সুযোগ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ওপরের সারির ব্যাটাররা যে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন, তাতে সেই ধারণা উড়ে গেছে।
হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট ও তানজিদ হাসান তামিমের শতকের প্রসঙ্গ তুলে লেমন লিখেছেন, বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটাররাই এই টেস্টে আলো কেড়ে নিচ্ছেন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় একটি জয় তুলে নেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম পাঁচ সেশনেই বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল বলে মূল্যায়ন করেছে গার্ডিয়ান। তাদের সরাসরি প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে লেখা হয়, বাংলাদেশের কাছে রীতিমতো পর্যুদস্ত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও তানজিদের শতকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার স্তম্ভিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।
Bangladesh have put Australia on the back foot in Darwin, and that couldn’t have been on anyone’s script.
— Ashwin 🇮🇳 (@ashwinravi99) August 14, 2026
From 54 all out in the warm up game to dominating the first two days of the 1st test.
That’s some turnaround. 🇧🇩🔥
Long may this format live🙏🙏 #AUSVBAN
প্রতিপক্ষ শিবির থেকেও এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড বলেছেন, ‘ওরা সত্যিই দারুণ ব্যাট করেছে। আমরা কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছি ঠিকই, তবে কৃতিত্ব বাংলাদেশের।’
প্রথম দিনে হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরদিন তানজিদের ১০১ ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ইনিংসে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটারও হয়েছেন তানজিদ।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটিতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
২০০৩ সালের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারও সফরের আগে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা ছিল সামান্যই। ম্যাচের ফল এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে ডারউইনের প্রথম দুই দিনেই নিজেদের নিয়ে লেখা আগাম চিত্রনাট্য বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ।



