logo
Advertisement

বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে ‘অনভিজ্ঞ’ অস্ট্রেলিয়া

বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে ‘অনভিজ্ঞ’ অস্ট্রেলিয়া
ট্রফির সামনে দু’দলের অধিনায়ক। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন উপলক্ষ এখন আর নিয়মিত আসে না। ওয়ানডে ক্রিকেটের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষবার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল ২০১১ সালে। দীর্ঘ দেড় দশকের (১৫ বছর) সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে এবার অস্ট্রেলিয়ার সামনে যে বাংলাদেশ দাঁড়াবে, সেটি আগের মতো কেবল স্পিন-নির্ভর কোনো দল নয়। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে আত্মবিশ্বাসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পেস আক্রমণে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখা এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে সামলাতে হবে সফরকারীদের। আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে না। ওয়ানডে সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি—২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেই অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরির ম্যাচটি এখনো দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়। এরপর অজিদের বিপক্ষে সুযোগ এসেছে খুব কম, সাফল্যও ধরা দেয়নি। ২০১১ সালের সর্বশেষ সফরেও বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ২০২৬ সালের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ এখন নিজেদের চেনা দুর্গে এক অপরাজেয় শক্তি।

সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার জন্য এবারের চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন করে তুলেছে তাদের স্কোয়াডের চোট ও খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি। নিয়মিত তারকা মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড ও লেগ স্পিনার তানভির সাঙ্গা এই সিরিজে নেই। মার্শের চোট, হেডের ব্যক্তিগত ছুটি ও সাঙ্গার হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরির কারণে দলে ডাক পেয়েছেন টড মার্ফি, অলি পিক ও ম্যাট শর্ট।

নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বভার সামলাবেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস ইংলিস। মার্শ-হেডের অভাব তরুণদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অজি অধিনায়ক। তবে ম্যাট শর্ট, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিদের নিয়ে গড়া তাদের আনকোরা ব্যাটিং লাইনআপকে মিরপুরের চেনা উইকেটে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

এই সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হতে পারে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। এক সময় বাংলাদেশে আসা মানেই যেখানে ছিল স্পিনের ফাঁদ, এবার সেখানে যোগ হয়েছে গতির ঝড়। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশের পেস ইউনিট এখন যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনআপকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানার এক্সপ্রেস গতি ও বাউন্স মিরপুরের উইকেটে মাঝের ওভারগুলোতে এক্স-ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। সাথে থাকছে মোস্তাফিজের কাটার ও তাসকিন-শরিফুলের নতুন বলের সুইং।

এছাড়াও দীর্ঘ চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। লোয়ার-মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তাঁর অফ-স্পিন মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে দলের ভারসাম্য রক্ষা করবে। এছাড়া রিশাদ হোসেনের লেগ-স্পিন অজি ব্যাটারদের জন্য নতুন ধাঁধা হতে পারে। মিরপুরের মন্থর উইকেটে টস জেতাও হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিটি জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিশাল এক অর্জন। বর্তমান কন্ডিশন ও ফর্মের বিচারে এই অনভিজ্ঞ অজি দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে শান্ত-মিরাজদের সামনে। স্পিনের চেনা গল্পের সঙ্গে গতির নতুন যুগ—এই দুইয়ের যুগলবন্দিতেই হয়তো অস্ট্রেলিয়া বধের নতুন ইতিহাস লিখবে বাংলাদেশ।