বেশকিছু ক্রিকেট আইনে পরিবর্তন আনছে এমসিসি

ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ‘লজ অব ক্রিকেট’ সংস্করণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। তবে খেলাটির মৌলিক কাঠামো বদলে না দিয়ে মূলত আউটের সংজ্ঞা, ওভার সম্পন্ন করার নিয়ম এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান নিয়ে স্পষ্টতা আনার দিকেই জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
মূলত ক্রিকেট আইনের ৪২টি আইনের কিছু সংশোধন এবং সংযোজন-বিয়োজন আনা হয়েছে, যার প্রয়োগ হবে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে। যেখানে স্ট্যাম্পিং, ডেড বল ঘোষণা, হিট উইকেট, উইকেটকিপারের অবস্থান, ব্যাটের সাইজ সংক্রান্ত পুরোনো নিয়মের মতো বিষয়গুলো বদলে যাবে।
বলের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আউট নয়
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে বল কন্ট্রোল সংক্রান্ত আইনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু বল ছুঁয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেই আর আউট ধরা হবে না। রানআউট বা স্ট্যাম্পিং বৈধ হতে হলে স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে ফিল্ডারের হাতে বল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। অর্থাৎ হাত বা গ্লাভস দিয়ে কেবল স্পর্শ করে বেল ফেলে দিলে সেটি আউট হিসেবে গণ্য হবে না— এতে আম্পায়ারদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও পরিষ্কার হবে।
দিনের শেষ ওভার শেষ করেই খেলা থামবে
বহুদিনের বিতর্ক মেটাতে টেস্ট ম্যাচের ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভারটি সম্পূর্ণ শেষ করেই দিনের খেলা শেষ হবে। ফলে নতুন ব্যাটারকে বাকি বলগুলো খেলতেই হবে— পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে খেলা মাঝপথে থেমে যাবে না।
উইকেটকিপারের অবস্থানেও নতুন নির্দেশনা
উইকেটকিপারের নড়াচড়া নিয়েও নিয়ম পরিমার্জন করেছে এমসিসি। আগে বোলারের রানআপ চলাকালীন কিপারকে পুরোপুরি স্ট্যাম্পের পেছনে থাকতে হতো। নতুন আইনে বলা হয়েছে, বল রিলিজ হওয়ার পর কিপারকে সম্পূর্ণভাবে স্ট্যাম্পের পেছনে থাকতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক আম্পায়ারিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
‘ডেড বল’ ও ‘ফাইনালি সেটেলড’-এর ব্যাখ্যা
বল কখন “চূড়ান্তভাবে স্থির” হয়েছে— এই সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। মাঠে বল স্থির থাকলেও বা কোনো ফিল্ডারের হাতে থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় আম্পায়ার এখন বেশি স্বাধীনভাবে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন।
হিট উইকেট ও ওভারথ্রো নিয়মে সংশোধন
‘হিট উইকেট’ আইনে ব্যাটারের ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে বল গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আছে বলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ফিল্ডারের সরাসরি সংস্পর্শে স্ট্যাম্প ভেঙে গেলে ব্যাটারকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ওভারথ্রো ও মিসফিল্ড-এর পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল স্টাম্পে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছোড়া থ্রো থেকেই অতিরিক্ত রান এলে সেটিকে ওভারথ্রো ধরা হবে।
আইসিসি-চলতি কিছু চর্চাও আইনে যুক্ত
আইসিসি এরই মধ্যে যেসব নিয়ম প্রয়োগ করছে, সেগুলোর কয়েকটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট আইনে যুক্ত হলো। এর মধ্যে রয়েছে বাউন্ডারি ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘বানি হপ’ নিষিদ্ধ করা, অর্থাৎ বাতাসে বল ধরার পর মাঠের ভেতরেই পরবর্তী সংস্পর্শ থাকতে হবে।
ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান নেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে— সব রান বাতিল, ফিল্ডিং দলকে পাঁচ পেনাল্টি রান এবং স্ট্রাইকে কে থাকবে তা বেছে নেওয়ার অধিকার থাকবে ফিল্ডিং অধিনায়কের।
এমসিসির ভাষ্য, এই সংশোধনীগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য আনা— বিশেষ করে উচ্চচাপের ম্যাচে যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় বিতর্ক তৈরি করে। ক্রিকেটের চেহারা বদলানো নয়, বরং নিয়মের ব্যাখ্যাকে আরও নির্ভুল করাই নতুন সংস্করণের উদ্দেশ্য।