ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের মেয়েদের

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের মেয়েদের
শেফালি ভর্মার ব্যাটে জয় পায় ভারত। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশ পেয়ে গিয়েছিল বড় সুযোগ। মারুফা আক্তারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলেছিলেন শেফালি ভার্মা। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন উইকেটরক্ষক নিগার সুলতানা জ্যোতি। জীবন পেয়ে আর ভুল করেননি ভারতীয় ওপেনার। তার আগ্রাসী ফিফটিতেই নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

Advertisement

ম্যানচেস্টারে টস জিতে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৬ ওভার ৫ বলেই ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন শেফালি। ইনিংসের শুরুতেই তাকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিলেন মারুফা। অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভ করতে গিয়ে বল ওঠে উইকেটের পেছনে। কিন্তু জ্যোতি ক্যাচ নিতে না পারায় বেঁচে যান শেফালি। এরপর সেই ভুলের বড় মূল্য দিতে হয় বাংলাদেশকে।

মারুফার পর সানজিদা আক্তার মেঘলার ওপরও চড়াও হন শেফালি। পাওয়ার প্লেতে একের পর এক বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে স্মৃতি মান্ধানা অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মারুফার বলেই ড্রাইভ করতে গিয়ে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৬ বলে ৮ রান করে ফেরেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার।

মান্ধানার উইকেটেও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। শেফালির ব্যাটিংয়েই পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেটে ৬৩ রান তুলে ফেলে ভারত। এরপর রাবেয়ার এক ওভারে বাউন্ডারি মেরে ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন নাহিদা আক্তার। তার বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন শেফালি। ৩৪ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রান করেন ভারতীয় ওপেনার। শেফালির বিদায়ের পর নাহিদা আরও এক উইকেট এনে দেন বাংলাদেশকে। কভারের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে রাবেয়ার হাতে ধরা পড়েন স্বস্তিকা ভাটিয়া। তার ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান।

মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। রিচা ঘোষকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান রাবেয়া। ১০ রান করে বিদায় নেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তবে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের আরেকটি ভুল আবারও ভারতকে সুবিধা দেয়। জেমিমাহ রদ্রিগেজকে রানআউট করার সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নাহিদা।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তোলেন জেমিমাহ। ১৫ বলে ২৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। রিতু মনি তাকে ফিরিয়ে দিলেও তখন ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষ দিকে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা আর কোনো নাটক হতে দেননি। ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাও ছিল ধাক্কায় ভরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রেনুকা সিংয়ের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন দিলারা আক্তার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে।

তবে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ভাগ্যও কয়েকবার সহায় ছিল। ভারতীয় ফিল্ডাররা একাধিক ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া করেন। সেই সুযোগে জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারি ইনিংস মেরামত করেন। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪০।

দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন জুয়াইরিয়া ও সোবহানা। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর জুয়াইরিয়াকে ফেরান নন্দিনী শর্মা। সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ৩১ বলে ৫ চারে ৩৩ রান করেন জুয়াইরিয়া, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ।

এরপর রান বাড়ানোর দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন সোবহানা। কিন্তু রাধা যাদবের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন তিনি। ২৬ বলে ২২ রান করেন সোবহানা।

মাঝের ওভারগুলোতে অধিনায়ক জ্যোতি কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করেন। শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ২৭ বলে ৩২ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ১২ বলে ১০, রিতু মনি ৪ বলে ৮ ও স্বর্ণা আক্তার ১০ বলে ১৩ রান করলে ১৩৬ পর্যন্ত যায় বাংলাদেশ।

স্কোরটা লড়াই করার মতো হলেও বাংলাদেশের ফিল্ডিং তা রক্ষা করতে পারেনি। শুরুর ক্যাচ মিস, পরে রানআউটের সুযোগ নষ্ট, আর পাওয়ার প্লেতে শেফালির আক্রমণই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে চ্যালেঞ্জ দিলেও সুযোগ হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।