logo

ঈদের পরই ফেরার কথা বুলবুলের, জানালেন বিসিবি সহসভাপতি ফারুক

ঈদের পরই ফেরার কথা বুলবুলের, জানালেন বিসিবি সহসভাপতি ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও অস্থিরতার সুর। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই গুঞ্জন—বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি পদ ছাড়ছেন? নির্বাচনে পরাজিত বা সরে দাঁড়ানো একটি পক্ষ বোর্ডের গঠন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতি জটিল হলে বুলবুল স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতেও পারেন। তবে এসব জল্পনার কোনো নিশ্চিত ভিত্তি এখনো সামনে আসেনি।

বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, সভাপতির পদত্যাগ নিয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) এক ইফতার অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বুলবুলের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং সভাপতি ঈদের পর দেশে ফেরার কথাই জানিয়েছেন। 

ফারুক বলেন, ‘এই (আমিনুল ইসলাম বুলবুল পদত্যাগ করতে চান) প্রশ্নের ব্যাপারে আমি কিচ্ছু জানি না। তবে আমি যদ্দুর জানি উনার সাথে কথা হয়েছে, উনি ঈদের পরে আসবেন বলেছেন।’

গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেটে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের অভিযোগ, বিদ্রোহী কিছু ক্লাবকে বাদ দিয়ে লিগ আয়োজন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে চাপ বেড়েছে বোর্ডের ওপর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এক পরিচালকের পদত্যাগ এবং আরেক পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগের খবর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বোর্ড সভাপতির অবস্থান নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

কিছুদিন আগে এমনও গুঞ্জন ছড়ায় যে, সভাপতির পদ টিকে না থাকার আশঙ্কায় বুলবুল নাকি রিটার্ন টিকিট ছাড়াই দেশ ছেড়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পরও তাকে বোর্ডের কাজে দেখা গেছে। পরে জানা যায়, পারিবারিক কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন এবং রমজান মাস পরিবারসহ কাটিয়ে ঈদের পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফারুক আহমেদ সরাসরি বলেন, পদত্যাগ নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার ভাষায়, সভাপতির সঙ্গে আলাপ অনুযায়ী ঈদের পর দেশে ফিরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার কথাই রয়েছে। অর্থাৎ অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

সম্প্রতি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশ ও কাভারেজ নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যা পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিথিল করা হয়। ফারুক মনে করেন, বোর্ড, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা জরুরি।

তার মতে, সবার লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি। তাই পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছাড়া এগোনো কঠিন।