ডারউইনে বাংলাদেশের জয় দেখছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম

বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়েই আলোচনা ছিল বেশি। তিন দিন পর বদলে গেছে ছবিটা। এখন আর জয় নয়, প্যাট কামিন্সের দল ইনিংস হার এড়াতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে।
বাংলাদেশের ৪২৬ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১। এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা। অর্থাৎ বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতেই ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিদের করতে হবে আরও ৬৭ রান।
এ অবস্থায় বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় এবং প্রতিপক্ষটির বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়ের পথে দেখছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট শিরোনাম করেছে, ‘কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া, আরও শক্ত হলো টাইগারদের নিয়ন্ত্রণ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় অঘটন এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ও বোলারদের নিজেদের সামর্থ্যের গভীরে যেতে হবে।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের সাফল্যকে শুধু অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখেনি। সফরকারীদের ‘সৎ পরিশ্রম’ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। জশ হ্যাজলউডের ৩০০তম টেস্ট উইকেট এবং ৬ উইকেটের অর্জনও বাংলাদেশের আধিপত্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
২২৮ রানের প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিততে পারলে সেটি হবে তাদের প্রায় ১৫০ বছরের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম প্রত্যাবর্তন। ১৯৯২ সালে কলম্বোয় ২৯১ রানে পিছিয়ে থেকেও শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর এত বড় ঘাটতি থেকে আর কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা।
এবিসি নিউজ লিখেছে, টেস্টের তৃতীয় দিনকে সাধারণত ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার দিন বলা হলেও ডারউইনে এগিয়েছে কেবল একটি দল। তাদের ভাষায়, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ‘বিখ্যাত এক জয়ের’ দিকে।
অস্ট্রেলীয় দলকে ডারউইনের গরমে ‘নিষ্প্রভ’ উল্লেখ করে এবিসি বলেছে, বাংলাদেশ যে শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও দক্ষতা দেখিয়েছে, স্বাগতিকদের খেলায় তার অভাব ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বের এক নম্বর দলকে এমন অবস্থায় দেখতে হবে, অস্ট্রেলীয় সমর্থকদের কাছে সেটি ছিল প্রায় অকল্পনীয়।
আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে ফক্স স্পোর্টস তাদের শিরোনাম, ‘প্রাণপণে ঝুলে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ।’ সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত টেস্টের নয়টি সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের জয় পেতে প্রয়োজন হবে ‘অলৌকিক কিছু’।
ফক্সের পূর্বাভাসব্যবস্থা তৃতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। সাবেক অস্ট্রেলীয় ব্যাটার মার্ক ওয়াহর কাছেও সেটিকে যথাযথ মনে হয়েছে। ডেভিড ওয়ার্নার জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের টানা সাত সেশনে পিছিয়ে থাকতে দেখেছেন বলে তার মনে পড়ে না।
অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি ক্যাচ ছাড়ার ঘটনাকে অ্যালিসা হিলি বলেছেন ‘খুবই অস্ট্রেলিয়াসুলভ নয়’। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাক ওয়েদারল্ড, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও কঠোর সমালোচনা হয়েছে।
নাইন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘অসাধারণ: লজ্জাজনক ইনিংস হার এড়াতে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া।’ অন্যদিকে দ্য অস্ট্রেলিয়ান সম্ভাব্য ফলটিকে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে দেখছে। তাদের বিশ্লেষণ, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে এবং স্বাগতিক শীর্ষক্রমের কয়েকজনের ক্যারিয়ারও এখন চাপের মুখে।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের সামগ্রিক সুর তাই পরিষ্কার। তারা বাংলাদেশের অবস্থানকে কেবল অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে না। হাসান মাহমুদের পেস, তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং, মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং পুরো দলের শৃঙ্খলাকে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।
চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম লক্ষ্য এখন ম্যাচ জেতা নয়, বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামানো। আর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ, অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষায়, টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অঘটনটি সম্পূর্ণ করার।



