ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন শঙ্কা

ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর বাকি মাত্র ১০ দিন। তবে ২০ দলের এই আয়োজনের আগে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে ছড়িয়ে পড়া নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায়। এবারের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক ভারত এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন করা যাবে কি না—সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আবার কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্য ভ্রমণ ও অবস্থান বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যেই নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ হিসেবে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক একাধিক গণমাধ্যমও এই প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
কেন নিপাহ ভাইরাসকে উচ্চঝুঁকির বলা হচ্ছে
নিপাহ ভাইরাস সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস গ্রহণসহ বিভিন্ন উপায়ে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং একবার সংক্রমিত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা এখনো নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারির সম্ভাবনাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত পাঁচজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তবে জনবহুল দেশ হওয়ায় সবার কার্যকর স্ক্রিনিং করা কঠিন, যা সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ চাপ পড়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে আয়োজন করতে হয়েছিল। বর্তমান নিপাহ পরিস্থিতি সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি ফিরিয়ে এনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মৃত্যুঝুঁকি উদ্বেগজনক
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যারা সুস্থ হন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেওয়ার নজিরও রয়েছে। ফলে এই ভাইরাসকে অন্যান্য অনেক ভাইরাসের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই
বিশ্বকাপ শুরুর আর খুব বেশি সময় নেই। ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু ও আয়োজন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।