লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াই, কী হয়েছিল মাঠে

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের সঙ্গে আলাদা উত্তাপ ছড়িয়েছে লিটন দাস ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের কথার লড়াই। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে সাধারণত বাংলাতেই বোলার ও ফিল্ডারদের নির্দেশনা দেন লিটন। তবে রিজওয়ানকে উদ্দেশ করে এদিন ভাষা বদলাতে হয় বাংলাদেশের উইকেটকিপারকে।
ঘটনার শুরু পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে। সালমান আগার সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলছিলেন রিজওয়ান। একই সঙ্গে প্রায় প্রতি বলের আগে কোনো না কোনো কারণে খেলা থামাচ্ছিলেন তিনি। কখনো সাইট স্ক্রিন, কখনো অন্য অস্বস্তির কথা বলে বোলারদের ছন্দ ভাঙছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েন লিটন।
একপর্যায়ে রিজওয়ানকে উদ্দেশ করে লিটন জানতে চান, কেন বারবার খেলা থামাচ্ছেন তিনি। রিজওয়ানও পাল্টা জবাব দেন। দুজনের কথার তীব্রতা বাড়তেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার। তার হস্তক্ষেপে ওই মুহূর্তের তর্ক থামলেও মাঠের আবহ আর শান্ত থাকেনি।
এরপরও রিজওয়ানকে ঘিরে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের কথার লড়াই চলেছে। উইকেটের পেছন থেকে লিটনের মন্তব্য, ফিল্ডারদের প্রতিক্রিয়া, এমনকি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দিক থেকেও ঠাট্টা-তামাশা শোনা গেছে। রিজওয়ান যখনই খেলা থামিয়েছেন, গ্যালারি থেকেও ভেসে এসেছে দুয়োধ্বনি।
দিন শেষে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের কাছে। তিনি সরাসরি বলেন, দুজনের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছে, সেটি তিনি জানেন না। তবে মাঠের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তিনি উপভোগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এমন আক্রমণাত্মক মানসিকতা তার কাছে অচেনা নয় বলেও ইঙ্গিত দেন টেইট।
তবে সীমা ছাড়ানোর পক্ষে নন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে কিছুটা আগ্রাসন থাকতেই পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মতো ম্যাচে। কিন্তু সেটি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সমর্থকেরাও এমন ম্যাচে আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপস্থিতি দেখতে চান বলেই মনে করেন তিনি।
পাকিস্তান শিবির থেকেও ঘটনাটিকে বড় করে দেখা হয়নি। দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হিসেবে আসা ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক জানান, তিনি ঠিক কী ঘটেছে জানেন না। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এমন কথার লড়াই হয়েই থাকে এবং তার মনে হয়নি বিষয়টি খুব গুরুতর কিছু।
মাঠের উত্তাপের মাঝেও ব্যাট হাতে পাকিস্তানের লড়াই টেনে নিয়েছেন রিজওয়ান। ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে তিনি অপরাজিত ৭৫ রানে। সালমান আগার সঙ্গে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কিছু সময়ের জন্য দুশ্চিন্তায় ফেলেছিলেন তিনি। শেষ দিনে পাকিস্তানের হাতে ৩ উইকেট, দরকার ১২১ রান। সেই অসম্ভবপ্রায় লড়াইয়ে সফরকারীদের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন রিজওয়ানই।
