আসিফ-বুলবুলের বক্তব্য ছাড়াই ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত হয়েছে, প্রকাশ হয়েছে ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনও। তবে সেই তদন্তে বক্তব্যই নেওয়া যায়নি ঘটনার দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির।তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য নেওয়া ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কমিটি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গেও কথা বলা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে কমিটি জানায়, তদন্তের জন্য বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার, ক্রিকেট সংগঠক, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ভিডিও, আইসিসির বিবৃতি ও সরকারি নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তোলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়া তদন্ত কতটা পূর্ণাঙ্গ হলো। কারণ ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আসিফ নজরুল, আর বিসিবির নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বক্তব্যই যদি না পাওয়া যায়, তাহলে তাদের এই তদন্ত প্রতিবেদন কতটা পূর্ণ। কমিটির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের অনুপস্থিতিতে দায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা অবশ্য জানান, অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নথি এবং সে সময়কার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাদের মতে, তদন্তের কার্যপরিধির মধ্যে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরকারের হস্তক্ষেপ, আইসিসির ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি না হওয়া, বিসিবির আলোচনায় ব্যর্থতা এবং যোগাযোগের ঘাটতিসহ একাধিক কারণ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটি আরও জানায়, তাদের মতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে চূড়ান্ত দায় কার, সেই প্রশ্নে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করেনি তারা।


