logo

মাহমুদউল্লাহর ৮ ছক্কাতেও হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস

মাহমুদউল্লাহর ৮ ছক্কাতেও হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের হয়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। ছবি: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের ফেসবুক পেজ

লক্ষ্যটা ছিল ২০৪ রানের। মাঝপথেই ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস যখন বড় হারের শঙ্কায়, তখন একাই পাল্টা লড়াই শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। ৮ ছক্কায় খেলেন ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তবে তার সেই লড়াই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নসের কাছে ৩৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২০৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নস। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রানে থামে মাহমুদউল্লাহর দল।

এর আগে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নসের কাছেও ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। ইমরুল কায়েস ও রনি তালুকদার উদ্বোধনী জুটিতে ৩.৫ ওভারে যোগ করেন ৩০ রান। ৬ বলে ৯ রান করে রানআউট হন রনি।

এরপর ফজলে মাহমুদকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন ইমরুল। দ্বিতীয় উইকেটে আসে আরও ৪১ রান। ৩০ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রান করে ফাওয়াদ আহমেদের বলে আউট হন ইমরুল।

সেখান থেকেই দ্রুত বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭১ রানে এক উইকেট থেকে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৮৫ রানে ৫ উইকেট। ফজলে মাহমুদ ২০ বলে ২৭ রান করেন। জাহুরুল ইসলাম ৪ এবং নাসির হোসেন ফেরেন ১ রান করে।

অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি জিয়াউর রহমানও। ১৩ বলে ৪ রান করে জিয়া ফিরলে ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০৮।

তখন জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯৬ রান।

জয় প্রায় নাগালের বাইরে চলে গেলেও থামেননি মাহমুদউল্লাহ। শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩৫ বলের ইনিংসে মাত্র ২টি চার মারলেও ছক্কা হাঁকান ৮টি। স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৮.৫৭।

শেষ তিন ওভারেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। ১৮তম ওভারে কেন রিচার্ডসনকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। পরের ওভারে জোনাথন ওয়েলসকেও হাঁকান একটি ছক্কা ও চার। ইনিংসের শেষ ওভারে বেন হিলফেনহাউসকে আরও দুটি ছক্কা মারেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

তবে ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬৬ রানে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফাওয়াদ আহমেদ ৩১ রানে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন হিলফেনহাউস, রিচার্ডসন ও ডার্সি শর্ট।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতে অবশ্য চাপ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৩৬ রানের মধ্যেই উসমান খাজা, ডার্সি শর্ট ও জো বার্নসকে ফিরিয়ে দেয় তারা।

কিন্তু এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যালাম ফার্গুসন। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৭ রান। ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৬৬ রান। ফার্গুসনের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ৬৩ রান, তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ২ ছক্কা।

শেষ দিকে বেন ডাঙ্কের ঝড়ে দুইশ ছাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ২৪ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪৫ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ উইকেট নেন আবু জায়েদ। চার ওভারে ৪৬ রান দেন তিনি। জিয়াউর রহমান নেন ২ উইকেট, আর রুবেল হোসেন ২০ রান দিয়ে নেন ওয়ার্নারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।