বিসিবি নির্বাচন আজ

মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়কের অধীনে হওয়া এই দুই নির্বাচনের দৃশ্যপট আলাদা হলেও, ক্রিকেট প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলো কিন্তু প্রায় একই রয়ে গেছে।
গত বছরের অক্টোবরে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের আমলে বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। আর এবার নির্বাচন হচ্ছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির অধীনে, যার ভেন্যু মিরপুরে বিসিবির নিজস্ব কার্যালয়।
নির্বাচন উপলক্ষে বিসিবি ভবন ঝলমলে আলোয় সাজানো হলেও, বাহ্যিক এই চাকচিক্য বাদ দিলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো উত্তাপ নেই বললেই চলে। মূলত পূর্বনির্ধারিত সমীকরণের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নই হতে যাচ্ছে আজকের এই ভোটে।
গত এপ্রিলে আমিনুল ইসলামের কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে তামিম ইকবালকে প্রধান করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সেই নিরপেক্ষতার দাবি এখন নতুন বিতর্কের মুখে, কারণ বর্তমান অ্যাডহক কমিটির ১১ জনের মধ্যে ৭ জনই এবারের নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী হয়েছেন। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে গত নির্বাচনে 'অস্বচ্ছতার' অভিযোগ তুলে যারা সরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের কয়েকজন এবার প্রার্থী হলেও কোনো শক্তিশালী বিরোধী প্যানেল বা জোট গড়ে তুলতে পারেননি। এমনকি প্রার্থী তালিকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষনেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পারিবারিক সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার (ক্যাটাগরি-১) অধীনে থাকা ১০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৭ জনই ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আজ ভোট হবে শুধু খুলনা বিভাগের দুটি এবং বরিশালের একটি পরিচালক পদের জন্য; যদিও সেখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বরিশাল ও খুলনার এই লড়াই মূলত একই বলয়ের প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া ক্যাটাগরি-৩ থেকেও একমাত্র পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায়, নির্বাচনের মূল ভোটাভুটি থাকছে কেবল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্যাটাগরিতে (ক্যাটাগরি-২)।
এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে শুরুতে ১৮ জন প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ১৬ জনে এসে ঠেকেছে। তবে ক্লাব পাড়াতেও শীর্ষ প্রার্থীদের অবস্থান ভোটের আগেই এতটাই সুসংহত যে, এই লড়াইকেও স্রেফ নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন মাঠের ভেতরে যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ট্রানজিশনাল সময় পার করছে, মাঠের বাইরেও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
গত বছরের নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ উঠেছিল, এবারও প্রার্থী বাছাই এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার সীমাবদ্ধতা সেই বিতর্ককে জিইয়ে রাখল। ফলে আজকের এই ভোট গ্রহণ স্রেফ নতুন বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়; বরং দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থার প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এটি আরেকটি বড় পরীক্ষা।