তিন দিনেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড

অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটা এর চেয়ে ভালো হতে পারত না জো রুটের। হেডিংলিতে মাত্র তিন দিনেই পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ১৭১ রানের জবাবে তৃতীয় দিন সকালে ৮ উইকেটে ৩৬৬ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। শেষ দুই উইকেটে আরও ৪৩ রান যোগ করে ৪০৯ রানে থামে তারা। এতে ইংল্যান্ডের লিড দাঁড়ায় ২৩৮ রানে।
বড় ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। দলীয় কোনো রান হওয়ার আগেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন জফরা আর্চার। নিজের পরের ওভারে আজান আওয়াইসকেও তুলে নেন তিনি।
শান মাসুদ ও আবদুল্লাহ শফিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাদের জুটি ভাঙার পর আবারও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৭৬ রানের মধ্যেই ফিরে যান প্রথম ছয় ব্যাটার।
শেষ দিকে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৯ বলে ৪১ রান করলেও পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কিছুটা কমাতে পেরেছেন। ৩৭ দশমিক ৩ ওভারে ১৩৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। চা-বিরতির আগেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের বিশাল জয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আর্চার, অলি রবিনসন ও জশ টাং। মাত্র ১১ রান দিয়ে একটি উইকেট পান গাস অ্যাটকিনসন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসেও পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছিলেন রবিনসন ও টাং। দুই ইনিংস মিলিয়ে রবিনসনের শিকার ৮০ রানে ৮ উইকেট। টাং নিয়েছেন ৮৯ রানে ৮ উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন রবিনসন।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “শুরুতে খুব একটা ছন্দে ছিলাম না। তবে বল দুই দিকেই নড়ছিল, তাই লাইন ও লেংথ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি।”
ইংল্যান্ডের ৪০৯ রানের ইনিংসে কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরি না পেলেও চারজন অর্ধশতক করেন। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, রুট ৬৬ ও ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন। পাকিস্তানের আলী উসমান নেন পাঁচ উইকেট।
৬৬ রানের ইনিংস খেলার পথে শচীন টেন্ডুলকারের সর্বাধিক ৬৮টি টেস্ট অর্ধশতকের বিশ্বরেকর্ডও ছুঁয়েছেন রুট। পরে দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব ও ফিল্ডিংয়েও পাকিস্তানের বিপর্যয়ে ভূমিকা রাখেন তিনি।
আগামী বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। আঙুলের চোট কাটিয়ে সেই ম্যাচে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম ফিরতে পারেন।



