logo

প্রোটিয়াদের কাছে ভারতের বড় ব্যবধানে হার

প্রোটিয়াদের কাছে ভারতের বড় ব্যবধানে হার

আহমেদাবাদে সুপার এইটের বড় মঞ্চে হঠাৎ করেই তাল কেটে গেল ভারতের। যে দলটি টানা জয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিল, সেই ভারতকেই এবার থামিয়ে দিল গত আসরের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেভিড মিলারের আগ্রাসী ব্যাটিং আর শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হার মানল স্বাগতিকরা।

এই হারেই শেষ হলো ভারতের ১৩ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অপরাজিত থাকা অধ্যায়। ২০২২ সালের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর আর হার দেখেনি তারা। শুধু তাই নয়, আইসিসি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ১৮ ম্যাচ পর পরাজয়ের স্বাদ পেল ‘মেন ইন ব্লু’—সর্বশেষ হারটিও এসেছিল এই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে।

১৮৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত কখনোই ম্যাচে জমে উঠতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৮.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় ১১১ রানে। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে শিবম দুবে ৪২ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও তা ছিল শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর জন্য। সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া ১৮ করে রান করেন, কিন্তু কেউই ম্যাচ ঘোরানোর মতো প্রভাব ফেলতে পারেননি।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল বিপর্যয়কর। বুমরাহ ও অর্শদীপ সিংয়ের গতিতে ২০ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। সেই চাপের মুখেই পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৪৯ বলে ৯৭ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ব্রেভিস ৪৫ রান করে ফিরলেও মিলার ছিলেন আরও বিধ্বংসী—৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। শেষদিকে ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দেয় ১৮৭/৭–এ।

ভারতের হয়ে জাসপ্রিত বুমরাহ ৩ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন, অর্শদীপ নেন দুটি। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় সব পরিশ্রমই বিফলে যায়।

এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। আর ভারতের জন্য এটি কেবল একটি হার নয়—সতর্কবার্তা। নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে ভুলের সুযোগ খুবই কম।