logo

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জাহানারার তিন দাবি

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জাহানারার তিন দাবি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলমের যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ নাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা। সেই অভিযোগে মঞ্জুরুলকে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও জাহানারা কাছে তা পর্যাপ্ত মনে হয়নি। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন এই পেসার। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বর্তমান শাস্তি যথেষ্ট নয় এবং আরও বিস্তৃত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জাহানারার দাবি, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিতই নন, আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, মূল অভিযুক্তের পাশাপাশি এই সহযোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ প্রেক্ষিতে তার প্রথম দাবি এই পুরো সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। তার ভাষায়, এমন বিচার হওয়া দরকার যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী ক্রিকেটার একই অভিজ্ঞতার শিকার না হন।

দ্বিতীয় দাবিতে তিনি সব ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান। জাহানারা বলেন, অনেকেই ভয়, অনিশ্চয়তা বা ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সামনে আসতে পারেন না। যারা সাহস করে অভিযোগ করেন, তাদের অনেকেই পরবর্তীতে দল বা পেশা থেকে ছিটকে পড়েন।

তিনি একটি উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে এক তরুণ ক্রিকেটার অভিযোগ করার পর অভিযুক্ত শাস্তি পেলেও ওই ক্রিকেটার নিজে আর দলে ফিরতে পারেননি। এমন বাস্তবতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

তৃতীয় দাবিতে জাহানারা ক্রীড়াঙ্গনে নারী ও শিশুদের জন্য শক্তিশালী সেফগার্ডিং নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলেন। উন্নত দেশগুলোর মতো স্পষ্ট নিয়ম, জবাবদিহিতা এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তিনি ক্রীড়াঙ্গনে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির মন্তব্যেও হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, ভুক্তভোগীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে এবং অন্যদের নিরুৎসাহিত করে।

জাহানারা আরও বলেন, তিনি এখনও জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার এবং মানসিক চাপে থাকার কারণে সাময়িক বিরতিতে আছেন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ একই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন।

তার কথায়, ‘আমরা শুধু একটি নিরাপদ পরিবেশ চাই, যেখানে নির্ভয়ে খেলতে পারব এবং দেশের জন্য অবদান রাখতে পারব।’

সবশেষে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান, তার এই তিনটি দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।