logo

১৯ বছর পর ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রস্তাব সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের

১৯ বছর পর ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রস্তাব সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান হওয়ার পরই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আবার টেস্ট সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন যুক্তরাজ্যে তিন ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ আয়োজনের ধারণা সামনে এনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ খেলতে সম্মতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভন লেখেন, ‘ক্রিকেট ও প্রতিযোগিতার জন্য এটি দারুণ খবর। এখন আমাদের দরকার খুব শিগগিরই একটি টেস্ট সিরিজ। তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজনের জন্য যুক্তরাজ্য হতে পারে আদর্শ জায়গা।’

— Michael Vaughan (@MichaelVaughan) February 9, 2026

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শেষ টেস্ট সিরিজ হয়েছিল ২০০৭ সালে। সে সময় পাকিস্তান ভারত সফরে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে ও টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ২০০৪ থেকে ২০০৭— টানা চার বছর দুই দল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল। ২০০৪ সালে দীর্ঘ ১৫ বছর পর পাকিস্তান সফরে গিয়ে ভারত ওয়ানডে ও টেস্ট—দুই সিরিজই জেতে। ২০০৫ সালে পাকিস্তান ভারতে এসে ওয়ানডে সিরিজ ৪-২ জিতলেও টেস্ট ১-১ ড্র হয়। ২০০৬ সালে ভারত আবার পাকিস্তান সফর করে; টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারে, তবে ওয়ানডেতে ৪-১ জয় পায়। এরপর থেকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বাস্তবতা হলো, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই দেশের বোর্ডই পরস্পরের দেশে সফরে যেতে অনাগ্রহী, আর নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও সিরিজ আয়োজনের বিষয়টি সরকারিভাবে অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুমোদনের ক্ষমতা রাখে না—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারকেই।

সম্প্রতি আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বৈঠকেও ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব ওঠে, তবে আইসিসি জানায় এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটে এখনো সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক দ্বৈরথগুলোর একটি। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, আতিথেয়তা খাত ও টিভি রেটিং—সব ক্ষেত্রেই এ ম্যাচ বিপুল আগ্রহ তৈরি করে। তবে ২০১০-এর দশকের পর থেকে দুই দলের মুখোমুখি হওয়া বিরল হয়ে পড়ায় দ্বৈরথের উত্তেজনা এখন অনেকটাই ‘দুর্লভতার আকর্ষণ’-নির্ভর বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবু টেস্ট সিরিজের সম্ভাবনা আপাতত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ—বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।