Advertisement

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই নাহিদ, প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত লিটন-শরিফুলও

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই নাহিদ, প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত লিটন-শরিফুলও
নাহিদ রানা, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো আশঙ্কা। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। প্রথম টেস্টে লিটন দাস ও শরিফুল ইসলামের খেলাও প্রায় অনিশ্চিত। তবে পুনর্বাসন ঠিকভাবে এগোলে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পারেন তারা।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় দলের পাঁচ ক্রিকেটারের চোট ও পুনর্বাসনের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল বিভাগ।

১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শরীরের বাঁ পাশের পেশিতে চোট পান নাহিদ। পরবর্তী স্ক্যানে তার গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পেশি সেরে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর বোলিংয়ের চাপ নেওয়ার উপযোগী হয়ে উঠতে প্রয়োজন হবে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ।

সব মিলিয়ে চোট পাওয়ার দিন থেকে নাহিদের মাঠে ফিরতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিসিবি। ফলে ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তার খেলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

দল ঘোষণার আগে নাহিদের চোট নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি বলেছিলেন, ‘নাহিদ রানা, লিটন ও শরিফুল আমাদের নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়। তিনজনকে নিয়েই চোটের উদ্বেগ আছে। তারা না থাকলে সেটি আমাদের জন্য খুব বড় ধাক্কা হবে।’

নাহিদের চোটের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচ খেলা বা কাজের চাপকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছিলেন বাশার। তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা। আমরা সবকিছু চিন্তা করেই এগিয়েছিলাম। সে জন্য তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে রাখিনি, সব ওয়ানডেতেও খেলাইনি।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে বাঁহাতি পেসার শরিফুলের খেলার সম্ভাবনাও কম। ১৪ জুলাই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পান তিনি। পুনর্বাসনে তার উন্নতি হচ্ছে এবং ২৯ জুলাই থেকে বোলিং শুরু করার কথা রয়েছে। ১২ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে।

প্রথম টেস্টের জন্য শরিফুলকে পাওয়া কঠিন হলেও বোলিংয়ের চাপ সফলভাবে নিতে পারলে এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টের দলে বিবেচিত হতে পারেন তিনি।

লিটন এখনো বাঁ পায়ের কাফ পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর শুক্রবার তার প্লেটলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা বা পিআরপি চিকিৎসা হয়েছে। ২৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দৌড় ও শারীরিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করবেন তিনি।

১৩ আগস্টের দিকে লিটনের ফিটনেস পরীক্ষা হওয়ার কথা। ফলে প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ করে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিবের মাঠে ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। সাম্প্রতিক স্ক্যান ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী আট থেকে দশ সপ্তাহ পুনর্বাসন চালিয়ে যাওয়ার পর তার আবার স্ক্যান করা হবে। হাড়ের চোট সেরে ওঠার গতির ওপর নির্ভর করবে তার ফেরার সময়। বিসিবির ধারণা, বছরের শেষ দিকে তাঁকে পাওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোট থেকে সেরে উঠছেন। জুলাইয়ের শেষে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। বোলিংয়ের চাপ নেওয়ার প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৮ আগস্টের পর থেকে নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনে। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট। নাহিদকে পুরো সিরিজে না পাওয়ার পাশাপাশি প্রথম ম্যাচে লিটন ও শরিফুলের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন করে তুলল।