logo

সাকিব ইস্যুতে বল এখন সরকারের কোর্টে, জানালেন ফারুক

সাকিব ইস্যুতে বল এখন সরকারের কোর্টে, জানালেন ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এক নাম—সাকিব আল হাসান। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং মামলার জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে আছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এবার সে জট খুলবে কি না, তার চাবিকাঠি যে আর বিসিবির হাতে নেই—সেটিই স্পষ্ট করলেন বোর্ডের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ।

শুক্রবার বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) ইফতার অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফারুক বলেন, সাকিবকে ঘিরে যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

ফারুকের ভাষায়, ‘সাকিবের ব্যাপারে ক্রিকেট বোর্ড থেকে যা যা করার দরকার ছিল, মামলার কাগজপত্রগুলো জায়গামতো দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

২০২৪ সালে সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। এরপর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলার জেরে দেশে ফেরা ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি—সবকিছুই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথাও শোনা যায় বিভিন্ন সময়ে।

ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেই দাবি করেছেন, সাকিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ভিত্তি দুর্বল, কারণ সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি দেশের বাইরে বিভিন্ন লিগে খেলছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বোর্ড সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

কয়েক মাস আগেও বোর্ড কর্মকর্তারা সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলতেন। এমনকি মাঠে তার সমর্থনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢোকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে হঠাৎ করেই সুর বদলায়। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা চায় সাকিব জাতীয় দলে ফিরুক—বিশেষ করে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে।

তবে ফারুক পরিষ্কার করে দিয়েছেন, বিষয়টি এখন আর কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়।  ‘উনি (সাকিব) প্রথমে সিদ্ধান্ত নেবেন তার ফিটনেস কেমন, দেশে আসতে পারবেন কি না। তারপর আরও অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে উনি খেলতে পারবেন কি না। খেলার প্রসঙ্গটা পরে আসবে। এই মুহূর্তে কিছু বলা কঠিন,’ যোগ করেন তিনি।

সরকার সবুজ সংকেত দিলে তবেই জাতীয় দলে ফেরার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত সাকিবের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ ঝুলেই থাকছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়ে তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—সাকিব ইস্যুতে বিসিবি তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব শেষ করেছে। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা সরকারের। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় নামটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে প্রশাসনিক টেবিলেই।