ক্রিকেটে সহযোগী দেশগুলো আর কতদিন অপেক্ষা করবে?

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেপালের রুদ্ধশ্বাস লড়াই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর শুরুতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে একটি পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশগুলোর জন্য আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা কবে আসবে?
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কাগজে-কলমে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তার প্রতিফলন ছিল না। ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল শেষ ওভার পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র চার রানে হেরে গেলেও নেপালের পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে—শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কি সত্যিই এত বেশি?
ম্যাচের শুরুতেই নেপালের ওপেনার কুশল ভুর্তেল জোফরা আর্চার ও লুক উডের মতো তারকা পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান। ইংল্যান্ড স্পিন আক্রমণে ভরসা করলেও অভিজ্ঞ আদিল রশিদ তিন ওভারে ৪২ রান দিয়ে চাপে পড়ে যান। শেষ দিকে লোকেশ বামের ঝড়ো ব্যাটিং ম্যাচটিকে প্রায় ইংল্যান্ডের হাতছাড়া করে দিচ্ছিল। শেষ দুই ওভারে সমীকরণ নেমে আসে ২৪ রানে, কিন্তু শেষ ওভারে স্যাম কারানের নিখুঁত ইয়র্কারে নেপালের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
তবে পরাজয়ের পরও স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল ‘নেপাল, নেপাল’ ধ্বনি। অধিনায়ক রোহিত পাউডেল ম্যাচ শেষে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে দল নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ মনে হচ্ছিল পুরো নেপাল যেন এখানে উপস্থিত। আমরা মাঠে নামি দেশের আশা–ভরসা নিয়েই।’
নেপালের এই লড়াই একা নয়। একই টুর্নামেন্টে নেদারল্যান্ডস শেষ ওভার পর্যন্ত পাকিস্তানকে চাপে রেখেছে, স্কটল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রায় হারিয়েই ফেলেছিল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের মতো পরাশক্তিকে বিপাকে ফেলেছিল। প্রথম ছয় ম্যাচের চারটিতেই বড় দলগুলোর বিপক্ষে ছোট দলগুলোর এই প্রতিরোধ আইসিসির নীতিনির্ধারণী প্রশ্নটিকেই সামনে এনে দিয়েছে—সহযোগী দেশগুলোর জন্য নিয়মিত আন্তর্জাতিক সুযোগ ও কাঠামোগত সহায়তা কতটা জরুরি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা প্রতিভার অভাবে নয়; সমস্যা নিয়মিত এক্সপোজারের ঘাটতিতে। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাসও বলেন, ‘অনেক ম্যাচই ছোট ছোট মুহূর্তে নির্ধারিত হয়। দক্ষতার ব্যবধান খুব বেশি নয়। নিয়মিত সুযোগ পেলে ব্যবধান আরও কমে আসবে।’
গত এক দশকে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তারে সহযোগী দেশের ক্রিকেটাররা বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপের বাইরে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সিরিজ ও কাঠামোগত সমর্থন না থাকলে এই অগ্রগতি টেকসই হয় না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেপাল শেষ পর্যন্ত জিততে না পারলেও ওয়াংখেড়ের সেই রাত দেখিয়ে দিয়েছে ব্যবধান দ্রুত কমছে। আর এই গল্পগুলো কেবল এক-দুটি চমক নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ শক্তি বিন্যাসের ইঙ্গিত। সহযোগী দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি—এমন মতই জোরালো হচ্ছে ক্রিকেট মহলে।